বিজ্ঞাপন

অধিকারের আদিলুর-এলানের রায় পর্যবেক্ষণে আদালতে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা

অধিকারের আদিলুর-এলানের রায় পর্যবেক্ষণে আদালতে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা

২০১৩ সালে মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান নিয়ে তথ্য বিকৃতির অভিযোগে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলার রায় শুনতে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার পর্যবেক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াতের আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন। 

অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনের ফাস্ট সেক্রেটারি সাচা ব্লুমেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা রায় পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। 

dhakapost

রায়ের বিষয়ে তাদের কোনো উদ্বেগ আছে কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। আমরা শুধু পর্যবেক্ষক হিসেবে আদালতে এসেছি।

এর আগে, গত ২৪ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন বিচারক। তবে সেদিন তা প্রস্তুত না হওয়ায় রায় ঘোষণা পিছিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন বিচারক। জামিনে থাকা দুই আসামি আদিলুর ও এলান আদালতে হাজির ছিলেন।

dhakapost

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। পরে সমাবেশস্থলে রাত্রিযাপনের ঘোষণা দেন সংগঠনটির নেতারা। তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দিতে যৌথ অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই অভিযানে ৬১ জন নিহত হয় বলে দাবি করেছিল মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। তবে সরকারের মতে, সেই রাতের অভিযানে কেউ মারা যায়নি। শাপলা চত্বরে অভিযানের পর ২০১৩ সালের ১০ আগস্ট গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন ডিবির তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম।

তদন্ত শেষে ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে আদিলুর ও এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে ৩২ জনকে সাক্ষী করা হয়। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য অভিযোগ আমলে নেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২০১৪ সালে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

dhakapost

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি আদিলুর ও এলান ৬১ জনের মৃত্যুর ‘বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা’ তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি ও প্রচার করে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অপচেষ্টা চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকার ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি দেশে-বিদেশে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।

পাশাপাশি তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি করে, যা তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (১) ও (২) ধারায় অপরাধ। একইভাবে আসামিরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চালায় এবং সরকারকে অন্য রাষ্ট্রের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালায়।

এমএল/কেএ

বিজ্ঞাপন