শিক্ষার্থী নির্যাতন : শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক রিমান্ডে

ঢাকার নয়াপল্টন এলাকার শারমিন একাডেমিতে এক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন নিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। এর আগে গত শুক্রবার এই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর ইসলাম। তবে ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত না থাকায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রোকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে অন্য আসামি পবিত্র কুমার বড়ুয়ার স্ত্রী শারমিন জাহান এখনো পলাতক আছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, ভর্তির সাতদিনের মাথায় ৪ বছরের শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে, মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে দেয়। যার সিসি ফুটেজ দেখান আদালতে। শারমিনের খবর জানতে চান আদালত। পরে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তাকে এখনো পাওয়া যায়নি। ওখানে আরও ২০০ শিক্ষার্থী আছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারসহ আরও শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের খবর বের করতে তার রিমান্ড প্রয়োজন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি আদালতে বলেন, শাসন করা তারই সাঝে, সোহাগ করেন যিনি। শিশুটির ওপর স্বামী-স্ত্রী মিলে অমানবিক পাশবিক নির্যাতন করেছেন। পবিত্র কুমার ও তার স্ত্রীর যথাযথ শাস্তি হওয়ার জন্য রিমান্ডে পাঠানো হোক।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল রশীদ মোল্লা আদালতে তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। পরে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীর নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমির প্লে শ্রেণিতে ২ মাস আগে বাদীনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা তার চার বছরের শিশুকে ভর্তি করান। ১১ জানুয়ারি থেকে শিশুটির ক্লাস শুরু হয়। ঘটনার দিন ১৮ জানুয়ারি সকালে ছেলেকে স্কুলে দিয়ে আসেন। দুপুর ১টার দিকে বাদীনি স্কুলে গিয়ে দেখেন, প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটির হাত জোর করে চেপে ধরে আছে। প্রিন্সিপালের স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া চেয়ারে বসে আছে। তখন বাদীনি তার সন্তানকে বিবর্ণ, ভীতসন্ত্রস্ত ও কান্নারত অবস্থায় দেখেন। এরপর বাচ্চাকে বাসায় নিয়ে যান। বাসায় নেওয়ার পর শিশুটি বারবার কান্না করে বলে, মা মিস আমাকে মেরেছে, আংকেল মারছে, আমি কিছু করি নাই, আমি তোমাদের বলে দিলে গলায় পাড়া দেবে এবং মুখ সেলাই করে দিবে। আমি স্কুলে যাবো না। অভিযোগে আরো বলা হয়, এরপর বাদীনি, তার স্বামীকে নিয়ে স্কুলে যায় এবং সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রিন্সিপাল শারমিন বাদীনির ছেলেকে হাত ধরে অফিসে প্রবেশ করে ও তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে। বাচ্চার মুখে ও গালে অনবরত আঘাত করতে থাকে। নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য শিশুটি চিৎকার দেয়। একপর্যায়ে প্রিন্সিপালের স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া শিশুটির মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে দেয়। সোফার সঙ্গে চেপে ধরে মারতে থাকে। বাদীনির বাচ্চা কান্না করলে, তারা দীর্ঘক্ষণ পাশবিকভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। মারধরের যন্ত্রণায় ওইদিন রাতে শিশুটির মাথা, ঘাড়, কানে ব্যথা করে। শিশুটি কানে কম শুনতে পায়। পরে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
মারধরের স্বীকার ওই শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফারয্ বিন আমানের (৪) মা শারমিন ফেরদৌসী বাদী হয়ে পবিত্র কুমার বড়ুয়া ও তার স্ত্রী শারমিন জাহানের বিরুদ্ধে ২২ জানুয়ারি পল্টন থানায় দুই আসামির বিরুদ্ধে শিশু আইনে মামলা দায়ের করেন।
এনআর/জেডএস