র্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমনকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেনকে দুই কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অভিযুক্ত র্যাব কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, আবদুল্লাহ আল নোমান ও ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী।
এর আগে র্যাবের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পা হারানো লিমন ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন।
আদেশের পর আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর একটি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আশাকরি রাষ্ট্র সেইটি উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে।
আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এই রুলটি বিচারিক সক্রিয়তার একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ এবং আইসিসিপিআর-এর অধীনে জীবন ও মর্যাদার অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের ইতিবাচক দায় রয়েছে। লিমন হোসেনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ শুধু সহানুভূতির বিষয় নয়, এটি একটি সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা।
ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী বলেন, আজ ন্যায়বিচার পনেরো বছরের পুরোনো একটি ক্ষত সারাতে শুরু করেছে। কোনো আদেশ বা ক্ষতিপূরণই হারানো একটি অঙ্গ ফিরিয়ে দিতে পারে না; তবে ক্ষতি এবং লেমন হোসেন যে ভয়াবহ অবিচারের মুখোমুখি হয়েছে তার স্বীকৃতিই জবাবদিহিতার সূচনা।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার জমাদ্দারহাটে র্যাবের অভিযানের সময় লিমন হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।
তিনি জানান, র্যাব সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করেন। এর কয়েক দিন পর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার বাঁ পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার মাত্র ১২ দিন আগে এই ঘটনা ঘটে। তখন লিমনের বয়স ছিল ১৬ বছর। সেই বছর তার আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।
তবে দমে যাননি দরিদ্র পরিবারের সন্তান মেধাবী লিমন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পড়াশোনা করে পরের বছর পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কাঁঠালিয়া পিজিএস বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪ পান তিনি। এরপর ভর্তি হন সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করছেন।
এমএইচডি/এমএসএ