জিয়াউলের বিরুদ্ধে প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, ফের সোমবার

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম ও খুনের দায়ে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার প্রথম দিনে আজ (রোববার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
জবানবন্দি অসমাপ্ত থাকায় আদালত আগামীকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ শুনানির শুরুতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম মামলার সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে কাঠগড়ায় দাঁড়ান সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তিনি তার জবানবন্দিতে সেনাবাহিনী সদস্যদের মধ্যে গুম ও খুনের সংস্কৃতি কীভাবে প্রবেশ করল এবং র্যাব সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।
মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানকে আজ সকালে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও শাইখ মাহদী। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন নাহার।
গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে– ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার দায় আনা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগটিও ৫০ জনকে হত্যার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। আজ সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
এমআরআর/বিআরইউ