সাবেক সেনাপ্রধানকে আজ জেরা করবেন জিয়াউলের আইনজীবীরা

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভুঁইয়াকে আজ জেরা করবেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের আইনজীবীরা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ জেরা হওয়ার কথা রয়েছে। প্যানেলের অপর সদস্যরা বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ মামলায় একমাত্র আসামি হওয়ায় জিয়াউল আহসানের পক্ষে লড়ছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, নাজনীন নাহার ও আইনজীবী নিজাম। আসামিপক্ষের এই আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে জেরার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের বেপরোয়া তুলে ধরেন ইকবাল করিম। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা র্যাবে গিয়ে পেশাদার খুনি হয়ে ফিরে আসতেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি। এছাড়া সেনাবাহিনী ও র্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তর বর্ণনা করেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।
এদিকে, আজ সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করবে পুলিশ। তার উপস্থিতিতেই জেরার কার্যক্রম চলবে।
গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথমটি হলো- ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ আরও তিনজনকে হত্যা। দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এমআরআর/এমএন