যুবদল নেতা আরিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর এবার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত সজিব খান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞাপন
গত ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে বিথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে যুবদল নেতা আরিফ হত্যার ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় করা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় নতুন বাজার এলাকায় সজিব খানকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ১৭ মার্চ বিথীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক হাসানুজ্জামান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, তদন্তে সন্দিগ্ধ হাজতী আসামি খাদিজা ইয়াসমিন বিথি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাকে একাধিকবার ভাটারা থানা এলাকার আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সাথে উস্কানীমূলক কথাবার্তা বলতে দেখা যায় মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আসামি এ মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত আছে মর্মে তদন্তে প্রতীয়মান হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণ থেকে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভাটারার নতুন বাজার ব্রীজের নিচে মো. সজিব খান আন্দোলনে অংশ নেন। এসময় ১৫০/২০০ জন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী লাঠি, লোহার রড, হকষ্টিক এবং আগ্নেয়াস্ত্রসহ আন্দোলনকারীদের উপর বেপরোয়া গুলিবর্ষন, ককটেল, হাতবোমা ও পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে অনেকে নিহতসহ আহত হয়। আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে সজিবসহ মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্র জনতার উপর গুলিবর্ষন, হাত বোমা, পেট্রোল বোমা ও ককটেল নিক্ষেপ করলে অনেক ছাত্র জনতা গুলিবিদ্ধ হয় এবং আহত হয়। এসময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিরা এলোপাথারী গুলি ছুড়লে তার বাম হাতে ও শরীরে বিভিন্ন জায়গায় গুলি লাগে।
এ ঘটনায় গত বছরের ১৪ মার্চ সজিব খান বাদী হয়ে ভাটারা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
এনআর/এমএসএ
