চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ২৪ জন আসামির পক্ষে সাক্ষীকে জেরা করা হয়েছে। এদিন আরেক আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রকাশ চন্দন কুমার ধর ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালতে হাজির থাকলেও তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে গ্রেপ্তার হওয়া ২৫ আসামির মধ্যে ২৪ জনকে জেলহাজত থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
অন্যদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগার থেকে এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। মামলার বাদি ও নিহতের পিতা জামাল উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।
বিজ্ঞাপন
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, আদালত মামলার পরবর্তী জেরা গ্রহণের জন্য আগামী ২৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
তবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক তাকে এ বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তিনি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সময়ে জানাবেন বলে সময় প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে তার পক্ষে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য আদালতে শুনানি করে তিন দফা সময় নিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।
তদন্তকালে এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে আসামির সংখ্যা বাড়ানো হয়।
আরএমএন/এমএসএ
