আলোচিত কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে (সিকেডি) ‘চাঁদাবাজির’ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনের চার সহযোগীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
আসামিরা হলেন- মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরে বাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক মো ছাব্বির আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্র পক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলার ঘটনারসঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রমাণ এবং তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলমান। আসামিরা পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রকৃত ঘটনার কথা স্বীকার না করে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় এবং গ্রেপ্তার, পরিকল্পনাকারী ও উসকানিদাতাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তাদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাওয়া একান্ত প্রয়োজন।
রাজধানীর শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় গত ১১ এপ্রিল যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে (মঈন) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে তার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। তার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে মঈন তাকে বলে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদের ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে বাদীসহ তার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, তিনি বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করেন এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত তার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) বাসায় আসতে ফোন করেন। পরে তার ভাই বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাত সাত-আট জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়।
এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। এর ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এনআর/এমএসএ
