বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক হত্যার পর এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা, চাকরিচ্যুত সাবেক মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে (৪৮) চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার।
আবেদনে বলা হয়, মাঞ্জিল হায়দার ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পলাতক সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠজন হওয়ার সুবাদে তাদের আলোচনা ও পরামর্শে সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে পেশাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা যায়। তার ধারাবাহিকতায়, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তাদের নির্দেশনায় সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য এবং সরকারকে অস্থিতিশীল করা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করেন। তাদেরকে প্রয়োজনীয় অর্থ ও কু-মন্ত্রণা দিতেন বলে জানা যায়। মামলার পলাতক আসামিদের সঙ্গে মাঞ্জিল হায়দারের যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলে তদন্তকালে জানা যায়। আসামি ঢাকা শহরের যেসব স্থানে ষড়যন্ত্রমূলক সভা করেছেন তার সঠিক অবস্থান জানা ও মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা জেনে পলাতকদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তাকে সাত দিনের রিমান্ড দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কামাল হোসেন তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল পৌনে ৩টার দিকে রমনা থানাধীন রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে মিছিল করে। সরকারবিরোধী বিভিন্ন প্রকার স্লোগান দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করা, সরকার তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে অপপ্রচার করেছিল। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পলায়নের চেষ্টা করে। কয়েকজনকে সেখান থেকে আটক করা হয়। ওই ঘটনায় ওই দিনই রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর কয়েক দফা রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
এনআর/এসএএস/জেডএস
