রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার ও আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত শিহাব হোসেনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চান। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ড চান। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ দিন আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
এর আগে বুধবার রাতে পাবনার বেড়া উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানা-পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মারা যাওয়া শিশুটির নাম মো. আবদুল্লাহ (১০)। সে বনশ্রীর সি-ব্লকের ‘আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। গত ১৯ মে রাত ১০টার দিকে শিশুটি আত্মহত্যা করার খবর পেয়ে মাদ্রাসায় যায় পুলিশ। গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে মরদেহ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় শিশুটির শরীরে অস্বাভাবিক যৌনাচার বা বলাৎকারের আলামত পান পুলিশ কর্মকর্তারা।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানা যায়, মাদ্রাসার ছাত্র শিহাব হোসেন এর আগে ওই প্রতিষ্ঠানের আরও চারজন ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ১৯ মে থানায় শিহাবের বিরুদ্ধে মামলা করে।
পুলিশ জানায়, ১৯ মে আবদুল্লাহর মরদেহ পাওয়ার আগেই অভিযুক্ত শিহাব মাদ্রাসা ছেড়ে পাবনায় নিজের গ্রামের বাড়িতে পালিয়ে যান। রামপুরা থানা-পুলিশের একটি দল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করে। গতকাল (বুধবার) রাত ৮টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, আবদুল্লাহর মৃত্যুতে বুধবার তার মা টুকু আরা খাতুন বাদী হয়ে রামপুরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলাৎকার এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শিহাব হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
এনআর/এসএএস/এসএম
