সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বর্তমানে পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। এই পাঁচ বিচারপতি নিয়ে গঠিত মাত্র একটি বেঞ্চ দিয়ে এখন সর্বোচ্চ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির কাজ চলছে। এ অবস্থায় মামলার কার্যক্রমে আরো গতি আনতে আপিল বিভাগে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের অন্য চার সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
এর আগে আপিল বিভাগে কখনও সাতজন বিচারপতি, কখনও নয়জন, কখনও ১১ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। অধিকাংশ সময়ে আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চে একযোগে বিচারকাজ পরিচালিত হতে দেখা গেছে। কিন্তু বর্তমানে বিচারপতি স্বল্পতার কারণে দুটি বেঞ্চ গঠন করতে পারছেন না প্রধান বিচারপতি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আপিল বিভাগের মামলাজট নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত আরো চার থেকে ছয়জন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। আপিল বিভাগে বর্তমানে ৩৮ হাজার মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাত হাজার মামলা শুনানির অপেক্ষায় আছে।
আইনজীবীরা বলছেন, আপিল বিভাগ হচ্ছে অ্যাপেক্স কোর্ট। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতে বিচারক সংকট রাখা ঠিক নয়। আপিল বিভাগে জমে থাকা মামলা নিষ্পত্তিতে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আপিল বিভাগে যদি দুটি বেঞ্চ থাকে, তাহলে মামলা আরো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। ২০০০ সাল ও ২০২৬ সালের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এখন মামলার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। মামলার জটিলতা বেড়েছে। ২০০০ সালে দেখেছি বিচারপতির সংখ্যা ৫/৬ জন ছিল। তখনকার প্রেক্ষাপটে সেটি ঠিক ছিল। এখন মামলা অনেক বেড়েছে। এ কারণে আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো খুবই প্রয়োজন। এ কারণে আমি মনে করি আপিল বিভাগে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
বিচারপতি সংকট নিরসনে আপিল বিভাগে দ্রুত আরো ছয়জন বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগ খুবই জরুরি। আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে মোট ১১ জন। সেখানে মাত্র পাঁচজন আছে। ছয়জনের পদ শূন্য আছে। আমি বর্তমান সরকারকে অনুরোধ করব, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের থেকে চারজন এবং সুপ্রিম কোর্ট বারে অনেক যোগ্য আইনজীবী আছেন, তাদের মধ্য থেকে দুইজনকে নিয়োগ দিতে। তাহলে মোট ১১ জন বিচারপতি হবে। তখন তিনটি বেঞ্চ গঠন করা যাবে।
এই আইনজীবী আরো বলেন, আপিল বিভাগের কাজ শুধু জামিন স্টে করা না। অসংখ্য মামলা নিষ্পত্তি করা দরকার। আমরা অত্যন্ত হতাশ আপিল বিভাগে মামলার শ্লথগতি দেখে। সরকারকে অনুরোধ জানাব, অনতিবিলম্বে ছয়জন বিচারপতি নিয়োগ দিতে।
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বিচারপতির সংখ্যা বাড়লে দুটি বেঞ্চ গঠন করতে পারবেন প্রধান বিচারপতি। দুই বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালিত হলে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা বাড়বে, মামলাজট কমে আসবে।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আপিল বিভাগে প্রায় ছয় হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এটি আশাব্যঞ্জক। যদি আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানো হয় তাহলে মামলাজট আরো কমে আসবে।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে গেছেন। আগামী ১৫ জুলাই অবসরে যাবেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। ২০২৮ সালের ১৭ মে অবসরে যাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
এমএইচডি/জেডএস
