জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি পিছিয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ (বৃহস্পতিবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি বলেন, এ মামলায় আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে ফজলে করিমকে আনা হয়নি। এজন্য আমরা আগামী ৭ বা ৮ জুন পর্যন্ত সময় চাই।
ফজলে করিম প্রসঙ্গে জহিরুল আমিন বলেন, তিনি (ফজলে করিম) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এজন্য তাকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করেনি তারা। তবে চিকিৎসাজনিত কাগজপত্র দেখে জানা গেল, শুধুমাত্র ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন তিনি। এ কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনো কিছু নেই।
সাবেক এই এমপির আইনজীবী এম হাসান ইমাম দাবি করেন, ফজলে করিমের বয়সজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি একদিন ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে ঘাড়ে আঘাত পান। এতে তার ঘাড়ের হাড় ভেঙে যায়। ফলে শুনানির জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।
এদিকে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রসিকিউশন থেকে সরবরাহ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন এ মামলায় স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম। যদিও প্রসিকিউশন থেকে এসব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিন সকালে চার আসামিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।
এর আগে, ১৩ মে এ মামলায় পলাতক ১৭ আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
হাছান মাহমুদ ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
গত ৭ এপ্রিল তিন অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় আনা হয়। এছাড়া জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার কথা উল্লেখ করা হয় তিন নম্বর অভিযোগে।
এমআরআর/এনএফ
