বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের মামলা, ৫ কার্যদিবসে চার্জশিট দিলো পুলিশ

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের মামলা, ৫ কার্যদিবসে চার্জশিট দিলো পুলিশ

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় সাড়ে ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ৫ কার্যদিবসের মধ্যে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) চট্টগ্রাম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ। এতে মামলাটিতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

এর আগে গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা বালুরমাঠ এলাকায় একটি গোডাউন কক্ষে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আসামি মনিরের স্বীকারোক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং বিক্ষুব্ধ হাজারো জনতা রাজপথে নেমে আসে। উত্তেজিত জনতা আসামিকে নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার দাবিতে বাকলিয়া থানা পুলিশকে প্রায় ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে ক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়।

ঘটনার পর ২২ মে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর পুলিশ অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন বাকলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ। তদন্ত চলাকালে আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ জানায়, আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দিও নেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে আসামি ও ভুক্তভোগীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সনদপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে গত ৪ জুন বাকলিয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঢাকা পোস্টকে বলেন, মামলা রুজুর পর মাত্র ৫ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। মামলার পারিপার্শ্বিক গুরুত্ব বিবেচনা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে দ্রুত তদন্ত শেষ করা হয়েছে। 

এমআর/বিআরইউ