বিজ্ঞাপন

স্বীকারোক্তি না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় : ট্রাইব্যুনালে আসামি

স্বীকারোক্তি না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় : ট্রাইব্যুনালে আসামি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন গ্রেপ্তার এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

আজ (বুধবার) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে আত্মপক্ষ সমর্থনে দেওয়া সাফাই সাক্ষ্যে তিনি এ দাবি করেন।

চঞ্চল বলেন, গ্রেপ্তারের পর আমাকে থানা হেফাজতে রাখা হয়। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে নেওয়া হয় ওসির কক্ষে। এর কিছুক্ষণ পর একজন পুরুষ ও একজন নারী ঢোকেন। ওসির কক্ষে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেন পুরুষ লোকটি। তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর জোহা হিসেবে পরিচয় দেন। সঙ্গে থাকা নারীকে তার হবু স্ত্রী বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জোহা আমাকে বলেন, ‘আমি যা বলব তা আপনাকে স্বীকার করতে হবে।’ তখন আমি বলি, ‘রামপুরার নির্মাণাধীন ভবনে ঝুলে থাকা ব্যক্তিকে আমি গুলি করিনি।’ এ কথা বলার পর আমার সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন তিনি। একই সঙ্গে তার কথামতো স্বীকারোক্তি দিতে বলেন।

এই আসামি বলেন, স্বীকারোক্তি দিতে রাজি না হলে আমাকে ভয়ভীতি দেখান জোহা। মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি। এতেও রাজি না হলে আমার নিকট আত্মীয়-স্বজনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

চঞ্চলের দাবি, ‘এ সময় থানার ওসিও আমাকে চাপ দেন। ওসি সাহেব বলেন, জোহা যা বলে তা মেনে নাও। পরে আমি জবানবন্দি দেই, যা দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় আমার মানসিক অবস্থা খারাপ ছিল। পরবর্তী সময়ে স্বীকারোক্তি দেওয়া ভিডিওটি দেখিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

সাফাই সাক্ষ্য শেষে চঞ্চলকে জেরা করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

জেরায় আসামির উদ্দেশে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গ্রেপ্তারের পর কবে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। জবাবে চঞ্চল বলেন, আইনজীবী নিয়োগের তারিখ মনে নেই।

রাষ্ট্রপক্ষের জেরায় চঞ্চল বলেন, আমার উপস্থিতিতে এ মামলার সব সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আমি সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছি। আমার আইনজীবীও এসব কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাইব্যুনালে যেদিন আমি সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছি, সেদিন কেউ আমাকে ভয়ভীতি দেখাননি। আমি নির্ভয়ে সাক্ষ্য দিয়েছি। ওই দিন আজকের কথাগুলো বলিনি। আইনজীবীর শেখানো সাক্ষ্য আমি দেইনি।

এদিন সকালে এ মামলায় পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি পান এএসআই চঞ্চল। তিনি ছাড়াও আরও সাক্ষী রয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। পরে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আরও একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এই এএসআই। জবানবন্দিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।

এদিকে, গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

এ মামলায় মোট আসামি পাঁচজন। এর মধ্যে চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। বাকিরা হলেন— ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

এমআরআর/এসএএস/এনএফ