বিজ্ঞাপন

ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল প্রমাণ

জন্মের আগে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, ২৭ বছর পর বাবার বুকে ফিরল ছেলে

জন্মের আগে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, ২৭ বছর পর বাবার বুকে ফিরল ছেলে

সব সংশয় আর আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল একটি ডিএনএ প্রতিবেদনে। অবশেষে জন্মের দীর্ঘ ২৭ বছর পর বাবার অবয়ব ছুঁয়ে দেখার পাশাপাশি মিলল পরম কাঙ্ক্ষিত পিতৃস্বীকৃতি। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশে বাবা তার সন্তানকে বুকে টেনে নেন।

জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে মা, বাবা ও সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় ছেলের দাবির সত্যতা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো ডিএনএ প্রতিবেদন হাতে পেয়ে আর অস্বীকার করতে পারেননি বাবা। গতকাল লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে সন্তানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার, ঘর তৈরির জন্য ২ লাখ টাকা এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। 

লিগ্যাল এইড সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার এক প্রবাসী যুবক তারই প্রতিবেশী এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সন্তান পৃথিবীতে আসার আগেই পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ওই ব্যক্তি পুনরায় প্রবাসে চলে যান এবং পরবর্তীতে দেশে ফিরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। অন্যদিকে, মায়ের গর্ভে থাকা শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে বড় হতে থাকে মাতুলালয়ে (মামার বাড়ি)।

বড় হয়ে বাবার সন্ধান পেলেও শুরুতে প্রবাসীর পক্ষ থেকে মেলেনি কোনো সাড়া। বাবার পরিচয় ও একটিবার বাবা ডাকার আকুতি নিয়ে ছেলের করা সব চেষ্টা যখন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছিল, তখন ২০২৪ সালের জুন মাসে নিরুপায় হয়ে চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আইনি সহায়তার আবেদন করেন ওই যুবক।

লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে শুনানির শুরুতে বাবা তার ছেলেকে নিজের সন্তান হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে বৈজ্ঞানিক অকাট্য প্রমাণে বেরিয়ে আসে আসল সত্য।

চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এরশাদুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএনএ টেস্টের ফল আসার পর বাবা ও ছেলের পুনর্মিলনের যে দৃশ্য তৈরি হয়েছিল, তা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিনের এই জটিল বিরোধের সুন্দর মীমাংসা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম কার্যালয়ের লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী জজ) সুব্রত দাশ জানান, সত্য উন্মোচনের পর বাবা ও ছেলে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। দীর্ঘদিনের এই দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে মীমাংসায় এগিয়ে আসায় লিগ্যাল এইড চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে বাবা-ছেলে উভয়কেই শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে টি-শার্ট দেওয়া হয়।

জন্মের পর থেকে যে পরিচয়হীনতার গ্লানি বয়ে বেড়াতে হয়েছিল, ২৭ বছর পর তা থেকে মুক্তি পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছেলে। 

তিনি বলেন, ‘এত বছর বাবার পরিচয় দিতে পারতাম না। সমাজে লোকজন নানা কটু কথা বলত। আজ বাবা আমাকে সন্তান হিসেবে মেনে নিয়েছেন। সমাজে আর কারও কথা শুনতে হবে না, এর চেয়ে বড় আনন্দ আমার জীবনে আর হতে পারে না।’

আতিকুল হা-মীম/এমএসএ