বিজ্ঞাপন

তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি

তাইম হত্যায় যেভাবে আসামি করা হয় ১১ পুলিশ সদস্যকে

তাইম হত্যায় যেভাবে আসামি করা হয় ১১ পুলিশ সদস্যকে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি। এ মামলায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১১ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

জবানবন্দিতে মামলাসংক্রান্ত সব তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর। তিনি জানান, মামলার দালিলিক প্রমাণের উদ্দেশ্যে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আদেশ-নির্দেশ, উসকানিমূলক বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতি- লেখনি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট সংগ্রহসহ পর্যালোচনা করেন। একইসঙ্গে লিপিবদ্ধ করেন গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধাসহ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ। এছাড়া পত্র-পত্রিকার কাটিংসহ ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও আলামত জব্দ করেন। এসব আলামতের বিশেষজ্ঞ মতামতও নেওয়া হয়। 

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, হামলার ঘটনাস্থল যাত্রাবাড়ী ও কাজলা ফুটওভার ব্রিজ এলাকাসহ আশপাশের হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়। এসব স্থান পরিদর্শন শেষে সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়। এরপর সবকিছুর বিশেষজ্ঞ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়।

এর আগে, ১৫ জুন প্রথম দিনের জবানবন্দি শেষ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা করবেন আসামিপক্ষ ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার ও প্রসিকিউটর মার্জিনা রহমান।

এ মামলায় ১১ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন দুজন। তারা হলেন- যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

পলাতক আসামিরা হলেন- ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।

চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৯ মার্চ।

এমআরআর/আরএফ/জেডএস