বিজ্ঞাপন

হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের প্রথম রায়ে স্ত্রী হত্যার আসামি খালাস

হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের প্রথম রায়ে স্ত্রী হত্যার আসামি খালাস

‘তদন্তে দুর্বলতা ও যথাযথ সাক্ষ্য না থাকায়’ যশোরের অভয়নগরে ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে স্ত্রী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী আব্দুল্লাহকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ (মঙ্গলবার) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে এ রায় দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তাসাদ্দর রায়হান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, যশোরের অভয়নগরে ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় নিজ ঘরে স্ত্রী সবুরা বেগম অগ্নিদগ্ধ হন। এরপর ২১ জানুয়ারি সবুরা বেগমের বাবা সামছুর শেখ বাদী হয়ে জামাই আব্দুল্লাহসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২২ জানুয়ারি সবুরা জবানবন্দি দেন। আর ২৮ জানুয়ারি সবুরা মারা যান। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৯ সালে আসামি আব্দুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে নিয়ম অনুসারে ডেথরেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। গ্রেফতারের পর আসামি জেল আপিল করেন।

গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু মামলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য  এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। সেই বেঞ্চে গত ১৪ জুন এ মামলার শুনানি শুরু হয়।

আইনজীবী ইমাম হোসেন তারেক বলেন, বাড়িতে আগুন লেগেছে দেখতে পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে একজন। এটা ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারির ঘটনা। আর মামলা হয় ২১ জানুয়ারি। পরের দিন ২২ জানুয়ারি ভিকটিম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন। মামলায় অভিযোগ করে ভিকটিমের হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুজে স্বামী আগুন লাগান। পরবর্তীতে ২৮ জানুয়ারি তিনি মারা যান। বিচার শেষে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

কেন খালাস পেলেন এ বিষয়ে তিনি বলেন, মামলায় অভিযোগ ছিল যৌতুক চেয়ে মৃত্যু ঘটনো। কিন্তু যৌতুক যে চেয়েছে সেটা প্রমাণ করতে পারেনি প্রসিকিউশন। হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুজে লেপ তোষকে কেরোসিন তেল দিয়ে আগুন দেওয়ারও একটা অভিযোগ আছে। স্বামী ঘটনাস্থলে ছিল বা ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এমন কিছু প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেনি। কী দিয়ে আগুন লাগিয়েছে সেটাও প্রমাণ করতে পারেনি। প্রসিকিউশন যদি একটা এভিডেন্স দিতো যে স্বামী ওখানে ছিল, একটা লাইন যদি কোনো সাক্ষী বলতো তাহলে সর্বোচ্চ সাজা হতো। ঘটনা রাতে হলেও তো হতো। ঘটনা ঘটেছে বিকেল তিনটা বাজে। আর আগুনে পুরো বসত বাড়ি পুড়ে গেছে। শুধু ভিকটিম পুড়ে গেছে, সেটা না।  

এমএইচডি/এনএফ

বিজ্ঞাপন