বিজ্ঞাপন

রামপুরায় হত্যাকাণ্ড : অস্ত্র-গুলি বরাদ্দ ছিল, তবু কেন আসামি নয়!

রামপুরায় হত্যাকাণ্ড : অস্ত্র-গুলি বরাদ্দ ছিল, তবু কেন আসামি নয়!

গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলা শেষ হয়েও যেন শেষ হচ্ছে না। মামলাটির রায় ধার্য আছে আগামী ২৮ জুন। এর মধ্যে সামনে এসেছে মামলার সাক্ষীর আন্দোলনের সময়কার ভূমিকা। ঘটনার দিন তার নামে অস্ত্র-গুলির বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সাক্ষী এসআই গোলাম কিবরিয়া কেন আসামি নয়, সে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাইব্যুনালও জানতে চেয়েছেন সেদিন তার ভূমিকা কী ছিল? প্রসিকিউশন বলছে, নতুন তথ্যপ্রমাণ পেলে সাক্ষীকেও আসামি করা হতে পারে।

তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়। আসামির তালিকায় উঠে আসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার নাম। অন্য আসামিরা হলেন– খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান, রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের ৪ মার্চ রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর পুনরায় সাক্ষ্য দেন প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেন। সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলাটিতে গ্রেপ্তার থাকা একমাত্র আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ২৮ জুন এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। চলতি বছরের ৪ মার্চ প্রথম দফায় রায়ের দিন ঠিক হলেও, প্রসিকিউশন নতুন ডিজিটাল প্রমাণ (ডিজিটাল এভিডেন্স) জমা দেওয়ার আবেদন করায় পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয় দফার সাক্ষ্য-শুনানি শেষে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য ছিল গতকাল ১৫ জুন। এদিন বেলা ১১টা বেজে ৪৫ মিনিটে এজলাসে ওঠেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। অপর দুই সদস্য হলেন– বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

বিচারিক প্যানেল ওঠার পর কার্যতালিকার তৃতীয় নম্বর মামলায় সময় প্রার্থনা করেন আসামিপক্ষের এক আইনজীবী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সময় না দিয়ে অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর এক নম্বর তথা রামপুরা মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথমে যুক্তি উপস্থাপন করেন আসামি চঞ্চলের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। নিজের মক্কেলের পুনঃজবানবন্দির অংশটুকু নিয়ে আইনি ব্যাখ্যা দেন তিনি। 

ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে সারওয়ার জাহান বলেন, আমার মক্কেলের (চঞ্চল) কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন তানভীর হাসান জোহা নামে একজন প্রসিকিউটর। চঞ্চলকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তার পরিবার-পরিজনকেও একই হুমকি দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন আমার মক্কেল। যা গত ১০ জুন ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাফাই সাক্ষ্যে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মামলার অন্যতম প্রধান রহস্য ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ৫ নম্বর সাক্ষী এসআই গোলাম কিবরিয়া। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন যে, ঘটনার দিন এই পুলিশ কর্মকর্তার নামে সরকারি অস্ত্র ও গুলি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন আসামির তালিকায় না রেখে সাক্ষী করা হলো। রামপুরা থানার তৎকালীন ওসির করা সাধারণ ডায়েরিতেও (জিডি) কিবরিয়া গুলি করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান এবং নতুন কোনো অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কেবল সাক্ষী হওয়ার অজুহাতে তিনি পার পাবেন না, তাকেও আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘প্রসিকিউটর সন্ত্রাসী নাকি?’ জবাবে কিছু না বলে নিজের মক্কেলের কর্মস্থলের ফিরিস্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার। তার দাবি, ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি নিজের কর্মস্থল খাগড়াছড়ির দিঘিনালা থানা থেকে চঞ্চলকে ওসির হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল ২৮ জানুয়ারি। এ তিনদিন তাকে থানায় আটকে রেখে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। প্রসিকিউটর তানভীর জোহা এসব কাজ করেছেন।

ট্রাইব্যুনাল তখন পর্যবেক্ষণ দেন, স্বীকারোক্তির ভিডিওতে জোরজবরদস্তির কোনো দৃশ্য বা আচরণ দেখা যায়নি। বরং অভিযুক্ত স্বাভাবিকভাবে বক্তব্য দিয়েছেন। আদালত প্রশ্ন তোলেন, তাকে রিমান্ডে বা জিজ্ঞাসাবাদে না নিয়ে সরাসরি স্বীকারোক্তি কীভাবে নেওয়া হলো?

এমন প্রশ্নে আইনজীবী সারওয়ার বলেন, আমার মক্কেলকে ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। তিনদিন পর তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এছাড়া ভিডিওর আগে-পরের কোনো অংশ ছিল না। শুধু চঞ্চলের কথাটুকুই রেকর্ড করা হয়। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারণ ওইদিন তার নামে কোনো অস্ত্র-গুলি ইস্যু ছিল না। ঘটনাস্থলেও ছিলেন না তিনি।

এ সময় চিফ প্রসিকিউটরের উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসামিপক্ষ যুক্তি দেখাচ্ছে- চঞ্চলকে ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু আপনারা ২৮ তারিখে গ্রেপ্তার দেখালেন!

যুক্তিতর্কের প্রথমে ভিডিওর কিছু অংশের অনুলিপি পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি চঞ্চলের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, ‘ডিএমপি কমিশনার (হাবিবুর রহমান) আমাদের চায়না রাইফেল দেন। আমি কার্নিশে ঝুলে থাকা ছেলেটিকে গুলি করেছি। আমার সঙ্গে তরিকুলও গুলি করেছে।’ ট্রাইব্যুনালের সামনে দেওয়া পুনঃজবানবন্দিতে ভুক্তভোগী সাক্ষী আমির হোসেনও এসব কথা বলেছিলেন।

মামলায় গ্রেপ্তার থাকা একমাত্র আসামি এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন আদালতে দাবি করেন, চঞ্চল ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন। এছাড়া চঞ্চলকে অবৈধভাবে আটকে রেখে এই জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল এবং ঘটনার দিন তার নামে কোনো অস্ত্র বা গুলি ইস্যু ছিল না। তবে ট্রাইব্যুনাল এই যুক্তি নাকচ করে পর্যবেক্ষণ দেন যে, স্বীকারোক্তির ভিডিওতে কোনো জোরজবরদস্তির লক্ষণ দেখা যায়নি, বরং অভিযুক্ত অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই বক্তব্য দিয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রথম জবানবন্দিতে জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়ার কোনো কথা উল্লেখ করেননি চঞ্চল। এখন বলছেন স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, হায়েনাদের কবল থেকে বাঁচার জন্য কার্নিশে ঝুলেছিল নিরীহ ওই তরুণ। সেখানেও তাকে গুলি করা হয়। আসলে তারা মানুষকে মানুষ মনে করেনি। তারা হায়েনা হয়ে গিয়েছিল। অতএব তাদের প্রতি কোনো দয়া নেই। আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় পুলিশ সদস্যের একজনের নামে অস্ত্র-গুলি ইস্যু হতো, কিন্তু খরচ করত আরেকজন। আবার জিডিও করা হতো।

এ পর্যায়ে রামপুরা থানার জিডির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ঘটনার দিন এসআই গোলাম কিবরিয়ার নামে অস্ত্র-গুলি ইস্যুর তথ্য রয়েছে। তাকে আসামি না করার কারণ কী?

জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমাদের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। প্রয়োজনে নতুন করে বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে। যদিও এ মামলায় গোলাম কিবরিয়াকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়েছে।

শুনানির এ পর্যায়ে ভিডিও নিয়ে এতদিন কথা না বলার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন চঞ্চলের আইনজীবী সারওয়ার জাহান। তিনি ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে বলেন, প্রসিকিউশনের দালিলিক প্রমাণাদিতে এতদিন এসব না থাকায় আমরা ভিডিও (স্বীকারোক্তি) নিয়ে কথা বলিনি। কষ্টটা নিজেদের ভেতরেই রেখেছি।

প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

সাক্ষ্যে যা বলেন গোলাম কিবরিয়া

গত বছরের ৪ নভেম্বর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের (প্রসিকিউশন) পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন গোলাম কিবরিয়া। রাজধানীর বাড্ডা থানায় এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে রয়েছেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রামপুরা থানায় একই পদে কর্মরত ছিলেন।

তার জবানবন্দি অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বেতার অপারেটরের মাধ্যমে নিলিং পজিশনে গিয়ে চাইনিজ রাইফেলে ফায়ারের নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। পরদিন (১৯ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে রামপুরায় বিটিভি ভবনের তিন নম্বর ফটকে তার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সব পুলিশ সদস্যকে থানায় থাকার নির্দেশনা দেন অফিসার ইনচার্জ। জুমার নামাজের পরপরই থানার আশপাশের এলাকায় জমায়েত হতে থাকেন আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্র-জনতার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে রামপুরা থানা ভবনের পাশে বনশ্রী জামে মসজিদের সামনে নিহত হন নাদিম। গুলিতে মারা যান মায়া ইসলাম নামে আরও একজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইন্টারনেট সেবা সচল হওয়ার পর রামপুরা থানা ভবনের পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদের কার্নিশে ঝুলন্ত একজনকে গুলি করার ভিডিও ভাইরাল হয়। এ নিয়ে ২৯ জুলাই এডিসি রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে রামপুরা থানায় একটি বৈঠক হয়। ঝুলন্ত ব্যক্তিকে এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার মিলে গুলি করছিলেন বলে ভিডিওতে শনাক্ত করেন উপস্থিত সবাই।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আদালতে চঞ্চলের স্বীকারোক্তির অনুলিপি পড়ে শোনান, যেখানে চঞ্চল নিজেই স্বীকার করেছেন যে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনারের দেওয়া চায়না রাইফেল দিয়ে তিনি ও এসআই তরিকুল কার্নিশে ঝুলে থাকা ছেলেটিকে গুলি করেছিলেন। ঘটনার পর ইন্টারনেট সচল হলে ছাদের কার্নিশে ঝুলন্ত এক নিরীহ তরুণকে গুলি করার সেই নৃশংস ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরবর্তীতে পুলিশের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকেই ভিডিও দেখে উপস্থিত কর্মকর্তারা গুলি বর্ষণকারী হিসেবে এসআই তারিকুল ইসলাম ও এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে শনাক্ত করেছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য

এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার দায়িত্বভার নেওয়ার অনেক আগেই এ মামলার সাক্ষীর কার্যক্রম শেষ হয়েছিল। আমি নিজেও দেখেছি যে, গোলাম কিবরিয়া নামে একজন সাক্ষী, তিনি পুলিশ কর্মকর্তা। ঘটনার দিন তার নামে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ইস্যু করা হয়েছিল। সেখানে তাকে সাক্ষী করেছেন আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, যদি তিনি (গোলাম কিবরিয়া) অপরাধ না করে থাকেন, তাহলে সংগত কারণেই আসামি হবেন না। তবে অপরাধ বা অংশগ্রহণ করে থাকলে যদি সাক্ষী করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টা আমরা খতিয়ে দেখবো বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছি। কেবল সাক্ষ্য দেওয়ার অজুহাতে তিনি দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন না। গোলাম কিবরিয়ার অপরাধ সংক্রান্ত কোনো সম্পৃক্ততা থাকলে অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন করা হবে। আমাদের এমন সুযোগ রয়েছে।

এমআরআর/বিআরইউ