বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলার রায় বুধবার

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলার রায় বুধবার

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা ও লাশ ছয় টুকরো করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বুধবার (১৭ জুন)।

চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে এই রায় ঘোষণা করার দিন ধার্য রয়েছে। আলোচিত এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পিবিআইয়ের সহকারী পুলিশ সুপার আবু জাফর মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় পরিবার ইপিজেড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তদন্তে জানা গেছে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির। পরে পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। প্রমাণ লোপাটের জন্য লাশ কেটে ছয় টুকরো করে পতেঙ্গা এলাকার সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। ২৫ নভেম্বর আবিরকে গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এতে মূল আসামি মো. আবির ও তার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর বন্ধুকে অভিযুক্ত করা হয়। আইনগত কারণে ওই কিশোরের নাম প্রকাশ করা হয়নি। মূল আসামি আবির বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মনোজ কুমার দে ঢাকা পোস্টকে বলেন, শুরুতে এই হত্যাকাণ্ডটি পুরোপুরি ক্লুলেস (সূত্রহীন) ছিল। তবে আমরা যখন তদন্ত শুরু করি, তখন নিখোঁজ হওয়ার আগে শিশু আয়াতের সঙ্গে সর্বশেষ যাকে দেখা গিয়েছিল, তাকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করি। তাকে গ্রেপ্তারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। পরবর্তীতে, তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আমরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আয়াতের খণ্ডিত মরদেহের ছয়টি টুকরো উদ্ধার করতে সক্ষম হই।

তিনি আরও বলেন, মামলার রায়ের দিন ধার্যের বিষয়টি আমি জেনেছি। এই ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী যে কিশোরের নাম এসেছে, সে মূলত মূল আসামি আবিরের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিল। সে পুরো হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত জানত, কিন্তু ঘটনার পর সেটি সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিল।

আতিকুল হা-মীম/জেআই