আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া দেহরক্ষী সেনাসদস্য ইমরুল কায়েসের জেরার জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (২২ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।
এ মামলায় পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুলের জেরা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আজ। তবে সময় চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। একইসঙ্গে কোনো ব্রিফিংয়ে জিয়াউল আহসানকে যেন খুনি না বলা হয়, সেজন্য মৌখিক আবেদন করেছে আসামিপক্ষ। শুনানি শেষে জেরার জন্য ২৮ জুন দিন ঠিক করেন আদালত।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
এদিকে, সকালে কারাগার থেকে গ্রেপ্তার জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রোববার তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য দেন ইমরুল কায়েস। র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় থাকাকালীন জিয়াউলের রানার তথা দেহরক্ষী ছিলেন তিনি। সেই সুবাদে দেড়শ-দুইশ মানুষকে হত্যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হন এই সেনাসদস্য। এমনকি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম প্রসঙ্গও ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন ইমরুল।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে জিয়াউলের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের পুবাইলে তিনজনকে হত্যা, ২০১০-২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনায় ৫০ জন এবং একই সময়ে আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এমআরআর/জেডএস
