বিজ্ঞাপন

ইউসিবিএলের ২৫ কোটি টাকা পাচার

সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আরও ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আরও ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলায় আরও সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। 

এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আরামিট গ্রুপ’-এর প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজানো হয়। এরপর ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করানো হয়। পরবর্তীতে সেই টাকা উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং সেখানে বিপুল সম্পত্তি কেনা হয়। 

তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান গত ৫ জানুয়ারি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (৫৬) ছাড়াও তার পরিবারের সদস্য, ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের আসামি করা হয়েছে।

আসামি তালিকায় উল্লেখযোগ্যরা হলেন, জাবেদের স্ত্রী ও ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) ও রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬),  সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর (৭৭), সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী (৬৪) এবং বশির আহমেদ, আফরোজা জামানসহ ১১ জন সাবেক পরিচালক।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে আসামি তালিকায় মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, আবদুল হামিদ চৌধুরীসহ ৬ জন সাবেক কর্মকর্তার নাম এসেছে। এছাড়া ভিশন ট্রেডিংয়ের সাজানো মালিক ফরমান উল্লাহ চৌধুরী, এজিএম উৎপল পালসহ ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছেন এই আসামির তালিকায়।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিল দুদক। তবে তদন্ত চলাকালে মূল আসামিদের মধ্যে ইউসিবিএল-এর সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং জাবেদের কর্মচারী কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা যান। ফলে তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে নতুন করে আরও ৭ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আজ (মঙ্গলবার) দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে ৭ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়। আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই মামলার পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।’

এমআর/বিআরইউ