জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিসচার্জ (অব্যাহতি) চেয়ে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীদের শুনানি শেষ হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে শুনানি চলমান থাকায় আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ (বুধবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ঠিক করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে আজ (বুধবার) পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম। প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে মক্কেলদের অব্যাহতি চান তারা। চট্টগ্রামে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ত না থেকে রাজনৈতিক মতাদর্শী হওয়ায় প্রসিকিউশন থেকে তাদের আসামি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন স্টেট ডিফেন্সের এসব আইনজীবী।
এরপর গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর ডিসচার্জের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম। তবে শেষ না হওয়ায় পরবর্তী শুনানির জন্য ২৮ জুন দিন ধার্য করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
এর আগে, ২২ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। মামলার প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর প্রার্থনাও করা হয়।
এ মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন— যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, ফজলে করিম চৌধুরী, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।
পলাতক আসামিরা হলেন— সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
প্রসিকিউশন জানায়, গত ৭ এপ্রিল তিনটি অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল এ ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়। মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় আনা হয়। এ ছাড়া, জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার কথা তিন নম্বর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এমআরআর/এসএএস/এনএফ
