বিজ্ঞাপন

ভাগনিকে যৌন পীড়নের মামলায় ইসতি মেডিকেলের এমডির জামিন

ভাগনিকে যৌন পীড়নের মামলায় ইসতি মেডিকেলের এমডির জামিন

বোনের মেয়ে (ভাগনি) ১৬ বছরের কিশোরীকে যৌন পীড়নের অভিযোগে গুলশান থানার মামলায় আত্মসমর্পণের পর কারাগারে যাওয়া ইসতি মেডিকেল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সালকে জামিন দিয়েছেন আদালত। 

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন পাঁচ লাখ টাকা মুচলেকায় এ মামলায় আগামী ধার্য দিন ১৪ জুলাই পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক তাহমিনা আক্তার এ তথ্য জানান।

গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ৬ মে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান ফয়সাল। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। 

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া, সম্পাদক আবুল কালাম খান, সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা খানসহ একাধিক আইনজীবী শুনানি করেন। 

তারা আদালতে বলেন, জমি–জমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে আসামির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার একমাস পর মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে, বাদীপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম, সাবেক সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হাসান মুকুলসহ একাধিক আইনজীবী শুনানি করেন। এসময় তারা আসামির জামিনের বিরোধিতা করেন।

আজও একই আইনজীবীরা দুই পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত পাঁচ লাখ টাকায় মুচলেকায় তিন শর্তে আসামির জামিনের আদেশ দেন। আদালতের দেওয়া তিন শর্ত হলো : তদন্তে সহযোগিতা, জামিনের অপব্যবহার না করা এবং বিদেশ যেতে পারবেন না।

আদেশের আগে বিচারক বলেন, মামলার শুনানিতে দুই পক্ষেরই ডিমান্ড থাকবে। আমার আদেশ দিতে হবে। সবাইকে তো খুশি করতে পারবো না। মামলার শুনানির জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আর মামলাটা শুনানির জন্য আমার কাছে আসার কথা নয়। গত দিনের ঝামেলার কারণে আমার কাছে এসেছে। 

তিনি বলেন, মামলার দুইপক্ষই সম্পদশালী। দুইপক্ষেরই অনেক আইনজীবী। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আগামী ধার্য তারিখের আগেই অগ্রগতি প্রতিবেদন চাওয়া হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আবারও শুনানি হবে। পরে আদালত তিন শর্তের কথা উল্লেখ করে পাঁচ লাখ টাকা মুচলেকায় জামিনের আদেশ দেন। শুনানিকালে ফয়সালকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।  

মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামি তার শ্যালক। তার তিন মেয়ের মধ্যে দুইজন পড়াশোনার জন্য বিদেশে অবস্থান করে। তার স্ত্রী মাঝে মধ্যে তাদের দেখাশোনার জন্য বিদেশে যায়। তার ছোট মেয়ে তাদের সঙ্গে থাকে, একটি কোচিং সেন্টারে লেখাপড়া করে। আসামি ২০২৫ সালের ২১ জুন বিভিন্নভাবে তার মেয়েকে ঘুরতে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়। যেহেতু আসামি আপন মামা হওয়ায় তার মেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। ঘুরতে গেলে আসামি নিজে ধূমপান করার সময় কৌশলে তার মেয়েকে ধূমপান করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে তার কথায় ধূমপান করে না। পরে ২৪ জুন মেয়েকে দুপুরে তার গুলশান থানাধীন কনকর্ড সিলভি হাইটস (৪র্থ তলা) ইসতি মেডিকেল বাংলাদেশের অফিসে লাঞ্চ করার জন্য ফোন করে যেতে বলে। তার কথামতো সে অফিসে যায় এবং সেখানে লাঞ্চ করে। পরে আসামি তার অফিসের বেলকোনিতে নিয়ে পুনরায় ধূমপান করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওই রাতে গাড়িতে করে মেয়েকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য বের হয়। আসামি নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করতে ছিলো। পথিমধ্যে আমেরিকান ক্লাব রোডে এসে মেয়েকে গাড়ি চালানো শিখানোর কথা বলে। এসময় ভিকটিমকে ড্রাইভিং সিটে তার কোলে বসতে বলে। কোলে বসতে অনিচ্ছা পোষণ করলে সামনের দুই সিটে মাঝখানে বসিয়ে গাড়ি চালানো শিখাতে শুরু করে। তখন আসামি আকস্মিকভাবে আক্রমনাত্ত্বক হয়ে ওঠে ভিকটিমকে যৌন নিপীড়ন করে। ভিকটিম বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে অসুস্থতার ভান করে বাসা যাওয়ার কথা বললে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তার এ কাজে ভিকটিম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বিবরণে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে ঘটনা সম্পর্কে কাউকে কিছু বলেননি। গত ১৭ এপ্রিল ভিকটিমের বড় বোনের বিয়ের দিন মোহাম্মদ ফয়সাল বাসায় আসলে ভিকটিম তাকে দেখে চিৎকার করে ওঠে এবং গালিগালাজ করে। তখন বাদীসহ পরিবারের লোকজন ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। 

এনআর/জেআই