পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ আদেশ দেন।
এতে বলা হয়, খাদিজা সুলতানা শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা করেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন। মামলার নথিতে তার দেওয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলার নির্দেশ দেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, শিমু বাদী হয়ে বেসরকারি ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় আদালতে মামলা করেন। পরে আদালত অভিযোগটি উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) এজাহার হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে শিমুর বিরুদ্ধে আগেই একটি পৃথক মামলা করেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
পুলিশের তদন্তে আরও উঠে আসে, খাদিজা সুলতানা শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং মো. ওমর ফারুক চৌধুরী একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ২০ জুলাই শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার একটি আদালতে মামলা করেন ওমর ফারুক চৌধুরী। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।
সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেওয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলায় দাবি করা হয়।
এনআর/আরএফ
