বিজ্ঞাপন

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ মামলার তদন্তে কোনো চাপ ছিল না : তদন্ত কর্মকর্তা

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ মামলার তদন্তে কোনো চাপ ছিল না : তদন্ত কর্মকর্তা

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে কোনো চাপ ছিল না বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা ইফতেখারুল আলম।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এ মামলার তদন্তে কাউকে বাদ দেওয়া বা কারও নাম নতুন করে যুক্ত করার ব্যাপারে আমাদের ওপর কোনো ধরনের চাপ ছিল না। আমাদের তদন্তের পদ্ধতি পুরোপুরিই ভিন্ন। শুরু থেকেই আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রসিকিউশন। কে আসামি হচ্ছেন, কেন হচ্ছেন- এসব বিষয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগকারী তথা হেফাজতে ইসলামের নেতারা সন্তুষ্ট। দু-একটি ব্যাপারে সংশোধন থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তকালে হেফাজত ইসলামের প্রায় প্রত্যেক শীর্ষ নেতাই তদন্ত সংস্থাসহ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। সব কর্মকাণ্ড আমরা যথাসময়ে তাদের জানিয়েছি। প্রসিকিউশনের যারা তদন্তকাজে খুব সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারেন, এমন প্রসিকিউটরও তদন্ত সংস্থায় নিয়োজিত ছিলেন। তারা সার্বক্ষণিক এসব দেখভাল করেছেন। এককথায় হেফাজত ইসলামের নেতারা সবসময়ই খোঁজখবর নিয়েছেন।

চলতি মাসেই ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ হেফাজত নেতাদের সঙ্গে মামলার খসড়া প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শহীদ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গেও আমরা মতবিনিময় করে থাকি। যেন তদন্ত কোনোভাবে বিতর্কিত না হয়। তবে নিরপরাধ কাউকে আমরা আসামির তালিকায় আনবো না। কিন্তু কোনো দোষীও বাদ পড়বে না। এজন্যই আমরা এই সতর্কতা অবলম্বন করছি। 

এ সময় আগামী ২১ জুলাই অবকাশকালীন ছুটি শেষে ট্রাইব্যুনাল খোলার দিনই এ মামলার ফরমাল চার্জ দাখিল করার আশা ব্যক্ত করেন চিফ প্রসিকিউটর। 

খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৪০ জনের বেশি ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানায় প্রসিকিউশন। 

বর্তমানে ৯ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

এমআরআর/আরএফ/এমএসএ