একজনের পাসপোর্ট দিয়ে অন্যকে ইতালি পাঠানোর অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন— মো. বেলায়েত হোসেন, নাজমুল হাসান, মেহেদী হাসান, কাওসার হোসেন, মো. সোলাইমান সুমন, মো. তৌহিদুর রহমান ও ফজলে রাব্বী। এদের মধ্যে বেলায়েত ও নাজমুলের দুদিন এবং অন্য পাঁচ আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
এদিন গ্রেপ্তার সাত আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তনুনন্দন রুরাম তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুকসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে রোববার (২৩ জুলাই) রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বাদী তাসলিমা আক্তারের স্বামী সুমন মিয়া ১১ বছর যাবৎ ইতালিতে রয়েছেন। ইতালিতে চার সন্তানসহ স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু কোনোভাবে তিনি ভিসা করতে পারছিলেন না। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি ঢাকার ইতালি দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। ১৪ মাস পার হলেও তিনি ভিসা পাননি। এই সময়ে তার পাসপোর্টের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। দূতাবাস থেকে মোবাইল করে জানানো হলে তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে যান। তখন আসামি নাজমুল তাকে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন করে দিতে পারবেন। দূতাবাস থেকে ওই পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তাকে দিয়ে নবায়ন করাতে দেন। এতে নাজমুলের প্রতি বিশ্বাস তৈরি হলে তিনি জানান, ইতালির যাওয়ার ভিসা করে দিতে পারবেন। গত ২ এপ্রিল গুলশানের জমাদার ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস অফিসে গেলে তার সঙ্গে বেলায়েতের পরিচয় হয়। ভিসা করে দেওয়ার জন্য সাড়ে চার লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি হয়। ভিসা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকা পরিশোধ করতে হবে।
গত ১৬ এপ্রিল ইতালি দূতাবাস থেকে তিনি পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বাহিরে বের হলে নাজমুলসহ অজ্ঞাত পরিচয় আসামিরা তার নিকট চুক্তি অনুযায়ী টাকা চান। তখন তার কাছে টাকা না থাকায় আসামিরা পাসপোর্টটি কেড়ে নেন। বাধ্য হয়ে তিনি তাদের ব্যাংক হিসাবে চার লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা দেন। টাকা দেওয়ার পর তিনি পাসপোর্ট ফিরে পান। ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ৯ জুলাই বিমানবন্দরে গেলে তাকে আটকে দেওয়া হয়। ইমিগ্রেশন থেকে জানানো হয়, গত ২৪ এপ্রিল তার পাসপোর্ট ব্যবহার করে একজন ইতালি গেছেন। এ ঘটনায় তিনি ২১ জুলাই রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন।
এনআর/এসএএস
