চার বছর আগে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক মো. হৃদয় ব্যাপারী ওরফে মো. হৃদয় মিঞা ওরফে হৃদয়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এই রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে চাকরিজীবী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ভিকটিমের ভাই মো. আল মঞ্জিল বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন ডিবি গুলশান জোনের উপ-পরিদর্শক মো. রিপন উদ্দিন। তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ, আসামির স্বীকারোক্তি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়, আসামি হৃদয় অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপুল টাকা হেরে যায়। জুয়ার দেনা মেটাতে ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন বিকেলে আফরোজাকে একা পেয়ে নিজ হাতে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।
পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাটির নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৯ ইঞ্চি লম্বা রক্তমাখা চাকু, লুণ্ঠিত ২২.০৪ গ্রাম স্বর্ণালংকার, রক্তমাখা টিস্যু পেপার ও লুণ্ঠিত ৬০০ টাকাসহ ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করেন। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. কে এম মঈন উদ্দীনের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের ডিএনএ রিপোর্টেও আসামির অপরাধ প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
মামলার বিচার চলাকালে মোট ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হয়। বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, বিশ্বস্ত কর্মচারী হয়েও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে একজন নিরপরাধ নারীকে অত্যন্ত বর্বরোচিত ও ঠান্ডা মাথায় জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি 'বিরল থেকে বিরলতম' অপরাধ।
এনআর/জেডএস
