জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মাদারীপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ অনুমতি দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। শুনানিতে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মাদারীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এতে তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ। তদন্তের স্বার্থে তাকে একদিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তদন্ত সংস্থা।
শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদনটি মঞ্জুর করে সেফহোমে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে এতে আপত্তি জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম আল সাইফুল।
ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে তিনি বলেন, আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ একজন বয়স্ক মানুষ। বর্তমানে বিশেষ কারাগারে রয়েছেন। তিনি নানা রোগে আক্রান্ত। এজন্য তাকে জেলগেট জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাবো। কারণ তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে নেওয়া তার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়াবে।
এ সময় প্রসিকিউশন থেকে বলা হয়, আইনানুযায়ী সেফহোমে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন সরকারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আসামিপক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী থাকার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা।
এর আগে, ২৯ জুন এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে প্রসিকিউশন থেকে আরও দুই মাস সময় চাইলে আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিন সকালে কারাগার থেকে গোলাপকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ এপ্রিল মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখান ট্রাইব্যুনাল-২।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রাজধানীর নাখালপাড়ার একটি বাসা থেকে মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক এই সাংসদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন তিনি।
এমআরআর/জেডএস
