বিজ্ঞাপন

হত্যা-অস্ত্র মামলায় ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার, পক্ষে নেই কোনো আইনজীবী

হত্যা-অস্ত্র মামলায় ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার, পক্ষে নেই কোনো আইনজীবী

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে একটি হত্যা ও দুইটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক সায়মা আফরিন হিমার আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ফটিকছড়ি থানার দুটি অস্ত্র মামলায় ডেভিড ইমন এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া একটি হত্যা মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। শুনানিকালে ডেভিড ইমনের পক্ষে কোনো আইনজীবীও নিয়োজিত ছিলেন না।

এর আগে বুধবার সকালে যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে চট্টগ্রামে এনে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ২২ জুলাই মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে দাবি পুলিশের।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় ডেভিড ইমন, আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল, মো. শামীম ও মো. সাফায়েত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন ভোরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অর্থায়ন এবং চক্রটির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

আরএমএন/বিআরইউ