বিজ্ঞাপন

কলাবাগানে মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা : গ্রেপ্তার জামাইয়ের দোষ স্বীকার

কলাবাগানে মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা : গ্রেপ্তার জামাইয়ের দোষ স্বীকার

রাজধানীর কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম (৩৫) ও স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাত্রিকে (২১) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার মো. হৃদয় ওরফে শিপন (৩০) আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর বিকেলে আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক সরদার ইব্রাহিম হোসেন সোহেল। 

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করেন। 

জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন সূত্রে জানা গেছে, আসামি মো. হৃদয় ওরফে শিপন নিজে কলাবাগান থানায় এসে আত্মসমর্পণ করলে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে শিপনের দেখানো মতে হত্যায় ব্যবহৃত চাকুটি বাদীর ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। আলোচ্য মামলা প্রাথমিক তদন্তকালে আসামির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাটি তদন্তাধীন।

উল্লেখ্য, আসামি শিপনকে গ্রেপ্তারের পরবর্তীতে ঘটনার বিষয়ে নিবিড়ভাবে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চেয়েছেন। এমতাবস্থায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করা একান্ত প্রয়োজন। 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে ফারজানা আক্তার রাত্রির সঙ্গে পারিবারিকভাবে আসামি শিপনের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই আসামি উগ্র মেজাজের হওয়ায় তুচ্ছ বিষয় ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ করতেন।

আরও বলা হয়, গত ২৪ জুলাই পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গ্রামের বাড়ি গেলে ৩০ জুলাই আসামিও দুই বন্ধুকে নিয়ে সেখানে যান। স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে তিনি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ না করেই ৩১ জুলাই ঢাকায় ফিরে আসেন। পরে ১ আগস্ট রাতে পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বাসায় ফেরেন। পরদিন ২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসায় হৃদয় শিপন ও রাত্রির মধ্যে ফের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আসামি রান্নাঘর থেকে একটি ধারালো সবজি কাটার ছুরি এনে রাত্রির গলায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। এসময় রাত্রির মা ফিরোজা বেগম মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আসামি তাকেও একই ছুরি দিয়ে গলা, কাঁধ ও হাতে উপর্যুপরি আঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় গত ২ আগস্ট আসামির শ্বশুর মো. ফারুক বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার দায়েরের পর পরেই আসামি হৃদয় ওরফে শিপনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এনআর/জেডএস

বিজ্ঞাপন