সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রী কলেজের নিয়মিত গভর্নিং বডির মেয়াদ ৮ মাস বাকি থাকা অবস্থায়, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সভাপতির মনোনয়ন পরিবর্তন করে স্থানীয় এমপির স্ত্রীকে সভাপতি নিয়োগের আদেশ স্থগিত করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
রিট আবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, উক্ত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক স্বাক্ষরিত সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ আসে। নতুন সভাপতি করা হয় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে। কলেজ কর্তৃপক্ষের অগোচরে হঠাৎ এই পরিবর্তনের ঘটনায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্থানীয় এমপির স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়।
উক্ত আদেশ পাওয়ার পরে ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের পক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, রেজিস্ট্রার এবং কলেজ পরিদর্শক বরাবর আইনি নোটিশ প্রেরণ করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। নোটিশের কোনো সদুত্তর না আসায় তিনি মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
রিট পিটিশনে বিবাদী করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক এবং সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার কলেজের অধ্যক্ষকে। ব্যারিস্টার শিহাবের পক্ষে আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন।
এমএইচডি/জেআই
