বিজ্ঞাপন

ট্রাইব্যুনালে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য

রাজুর পায়ে গুলি চালান আনসার সদস্য, পিঠে চালায় পুলিশ

রাজুর পায়ে গুলি চালান আনসার সদস্য, পিঠে চালায় পুলিশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চোখের সামনে রাজু আহম্মেদকে প্রাণ হারাতে দেখেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী চাচাতো ভাই। তিনি বলেন, রাজুর পায়ে প্রথমে গুলি চালিয়েছিলেন এক আনসার সদস্য। পরে এক পুলিশ সদস্য তার পিঠে গুলি করেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা উল্লেখ করেন এই সাক্ষী। মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন তিনি।

নিরাপত্তার স্বার্থে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ২৫ বছর বয়সী এই যুবক বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মপুর থানার বাঁশবাড়ি রোডের চাঁনমিয়া হাউজিং ওরিয়েন্টাল কভান ভবনের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেই আমি ও আমার চাচাতো ভাই রাজু। একপর্যায়ে আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরে পুলিশ। আমরা ধাওয়া খেয়ে ভবনটির দ্বিতীয় গেটে অবস্থান নেই। ওই সময় কাছে এসে রাজুকে আমার কাছ থেকে রাজুকে কেড়ে নেন আনসার সদস্য ওমর ফারুক। তার বাঁ পায়ে একটি গুলি করেন তিনি। এরপর রাজুর পিঠের বাঁ দিকে গুলি চালান একজন পুলিশ সদস্য। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাজু। আমি তার পায়ের কাছে শুয়েছিলাম।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে পুলিশকে ধাওয়া দেন ছাত্র-জনতা। এতে সেখান থেকে সরে যায় পুলিশ। পরে আমি রাজুকে নিয়ে পরিচিত একজনের মোটরসাইকেলে করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে রওনা হই। পথে আমার কাছে পানি খেতে চান রাজু। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি ফোন করে জানালে হাসপাতালে আসেন আমার দুই সহকর্মী। ওই দিন রাত ৯টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজুর লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা দেই। যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে আমাদের হুমকি দিলে ভিন্ন পথে গ্রামের বাড়ির দিকে অগ্রসর হই। ২০ জুলাই গ্রামের বাড়িতে রাজুর জানাজা হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এই সাক্ষী বলেন, ২৮ জুলাই আমি কর্মস্থলে ফিরে এসে কভান ভবন থেকে ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। কারণ ভবনটির পাশের ভবনে আমি চাকরি করি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাই যে, পুলিশ ও আনসার সদস্য মিলে রাজুকে নির্মমভাবে গুলি করেন। ওই এলাকার কাউন্সিলর আসিফ, রাজিব, বিপ্লব, রাষ্ট্রনরা ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালান। তারা আমাদের অফিসেও গুলি করেন।

এ সময় চাচাতো ভাই রাজু আহম্মেদের হত্যার বিচার চান সাক্ষী। ওমর ফারুকসত অন্যান্য যেসব নেতার নির্দেশে গুলি করেছে তাদেরও বিচার চাই। নানক, তাপস, বিপ্লবসহ অন্যা নির্দেশে গুলি করেন বলে জানান তিনি।

এ মামলায় ২৮ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন চারজন। তারা হলেন- নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক ও যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।

এমআরআর/বিআরইউ