বিজ্ঞাপন

সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা : শান্তা ফারজানাসহ ৬ জনের জামিন মেলেনি

সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা : শান্তা ফারজানাসহ ৬ জনের জামিন মেলেনি

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ৬ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত এই আদেশ দেন।

অন্য আসামিরা হলেন— দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল ও হরী সরকার।

এদিন তাদের পক্ষে আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকেই জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে দেন।

শুনানিতে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নতুন ধারা বাংলাদেশের মানবাধিকার, গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করে। এটা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন না। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। তাদের জন্য জামিনের প্রার্থনা করছি।

এর আগে, গত ৪ আগস্ট রাতে বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তির করা এক মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা আওয়ামী লীগের দোসর ও বর্তমান সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী। তাদের সংগঠনের নাম নতুন ধারা বাংলাদেশ। আসামি শান্তা ফারজানা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ এবং জুলাই আন্দোলনকে ‘জঙ্গি আন্দোলন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এ ছাড়া, শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদী অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও বলা হয়, জুলাই-পরবর্তী নবগঠিত বিএনপি সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমন্বয় করে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ থানার প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তা ফারজানাসহ নামীয় আসামি এবং অজ্ঞাত পরিচয় ৫০ থেকে ৬০ জন উসকানিমূলক স্লোগান দেন ও মিছিল করেন।

এ সময় বাদী এসডিএফের সদস্য সচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াস এবং জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা এর প্রতিবাদ করলে শান্তা ফারজানার নেতৃত্বে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকি স্টিক নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে জুলাই যোদ্ধা মহসিন, আশরাফুল ও তাওহিদ রক্তাক্ত জখম হন। এ ছাড়া, বাদী ও আল নুর মোহাম্মদ আয়াসকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনায় বাবুল সরদার বাদী হয়ে শাহবাগ থানার মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে ছয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

এনআর/এসএএস

বিজ্ঞাপন