বিজ্ঞাপন

ক্রসফায়ারে ছাত্রদল নেতাসহ ২ হত্যা : ট্রাইব্যুনালে দুই থানার ওসির সাক্ষ্য

ক্রসফায়ারে ছাত্রদল নেতাসহ ২ হত্যা : ট্রাইব্যুনালে দুই থানার ওসির সাক্ষ্য

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ক্রসফায়ারে ছাত্রদল নেতাসহ দুইজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

এদিন ট্রাইব্যুনালে মামলার ৯ ও ১০ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন যথাক্রমে উজিরপুর মডেল থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম এবং আগৈলঝাড়া থানার ওসি মাসুদ খান। দুইজনই জব্দ তালিকার সাক্ষী ছিলেন।

জবানবন্দিতে এ মামলার বিভিন্ন আলামত কখন, কোথায় থেকে জব্দ করেছিলেন, তা তুলে ধরেন পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা। পাশাপাশি মামলাসংশ্লিষ্ট সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কখন করা হয়েছিল, তাও উল্লেখ করেন।

সাক্ষ্য শেষে তাদের জেরা করেন গ্রেপ্তার দুই আসামির আইনজীবী আবুল হাসান ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন। জেরা সম্পন্ন হলে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৬ আগস্ট দিন ঠিক করেন আদালত।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। এ সময় প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, জহিরুল আমিন, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

এ মামলায় গ্রেপ্তার আছেন উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিন। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সাবেক এমপি আবুল হাসানাত ছাড়া অন্য আসামি বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম এহসান উল্লাহ পলাতক রয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের শিকার দুইজন হলেন— আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।

এর আগে, ২০ মে চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু ও কবির ছিলেন আবুল হাসানাতের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। এজন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করেন তিনি। এ কাজ বাস্তবায়ন করতে তৎকালীন এসপি একেএম এহসান উল্লাহকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর মিথ্যা মামলায় ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দুইজনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর থানা পুলিশ। এরপর মাহাবুল ও জসিমকে দিয়ে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে টিপু ও কবিরকে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়।

এমআরআর/এসএএস