‘ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে থাকলেই মাঠপর্যায়ের সব কর্মীর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এমনকি সদস্য ফরম পূরণ করা অনেকেই জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। অতএব তাদের নির্দেশে কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।’
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এসব দাবি করেছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনানের আইনজীবী ইশরাত জাহান। তিনি যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হয়েও আইনি লড়াই করছেন। আসামিরা পলাতক থাকায় রাষ্ট্রীয় খরচে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার পক্ষে দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক ছিল আজ। এদিন প্রথমেই নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন পলাতক কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী এম হাসান ইমাম। এরপর ইশরাতের যুক্তিতর্ক শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, আমার চারজন মক্কেলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন যেসব অভিযোগ এনেছে, প্রকৃতপক্ষে তেমন কোনো অংশগ্রহণ নেই। তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখেননি। এ ছাড়া, নির্দেশনা, উসকানি, প্ররোচনার পক্ষে অডিও-ভিডিওসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত দাখিল করলেও কোনোভাবে প্রমাণিত হয়নি যে, পরশ, নিখিল, সাদ্দাম ও ইনানরা ছাত্র-জনতাকে খুন বা আহত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলেই দেশের সব নেতাকর্মীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলা ঠিক হবে না। কারণ শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ছাত্রলীগের সদস্য ফরম পূরণ করেও অনেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেমেছেন। তাই ছাত্রলীগের কর্মী হলেই সভাপতি-সম্পাদকের কথা শুনবেন, এমনটা সঠিক নয়। সুতরাং সেসময় যা ঘটেছে, এসবে কোনো ধরনের উসকানি, প্ররোচনা বা নির্দেশ দেননি আমরা মক্কেলরা।
আন্দোলন দমন করা মানে মেরে ফেলা নয় উল্লেখ করে স্টেট ডিফেন্সের এই আইনজীবী বলেন, ‘যারা নিজেদের রাজাকার দাবি করে, তাদের আমরা শেষ দেখে নেবো’ প্রসিকিউশনের অভিযোগে এমন একটি কথা আনা হয়েছে। এ নিয়ে আমরা ট্রাইব্যুনালকে বলেছি যে, শেষ করা মানে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। তাদের মেরে ফেলা নয়। কারণ আন্দোলনকারীদের মেরে ফেলার উদ্দেশ্য থাকলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হতো না। মূলত পরিস্থিতি সামাল দিতেই এ কথা বলা হয়েছে।
নিখিলের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না দাবি করে ইশরাত জাহান বলেন, অস্ত্র হাতে নিখিল ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু প্রসিকিউশন থেকে জমা দেওয়া কোনো ভিডিও বা প্রমাণাদির কোথাও আমরা এমন কিছু দেখিনি। সাক্ষীরাও এমন কথা বলেননি। এ ছাড়া, প্রশাসন থেকে অনুমোদন নিয়ে যেকোনো মিছিল করা যায়। সাদ্দাম-ইনানরাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করেছেন। অথচ এটাকেই প্রসিকিউশন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতে চেয়েছে। তবে আমার যুক্তি উপস্থাপন এখনও শেষ হয়নি। আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) বাকি বক্তব্য তুলে ধরা হবে।
নিখিল প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে এই আইনজীবী বলেন, তিনি (নিখিল) একজন এমপি ছিলেন। বাংলাদেশে এমপি নন, যেকোনো মানুষই অস্ত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ট্রাইব্যুনালে আমার সাবমিশন ছিল যে, নিখিলের হাতে কোনো অস্ত্র দেখা যায়নি। যদি দেখেও থাকে, তাহলে তার লাইসেন্স করা অস্ত্র নাকি অবৈধ ছিল, সে ব্যাপারে তাদের কোনো ব্যাখ্যা নেই।
এর আগে, ১২ আগস্ট সাত আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করেছে প্রসিকিউশন। গত ৪ আগস্ট এ পর্ব শুরু হয়।
এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এমআরআর/এসএএস
