বিজ্ঞাপন

সাবেক মেজর সাদিক ফের আরেক মামলায় গ্রেপ্তার

সাবেক মেজর সাদিক ফের আরেক মামলায় গ্রেপ্তার

ঢাকার ভাটারা এলাকায় প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নামঞ্জুরের পর এবার খিলক্ষেত থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে গ্রেপ্তার দেখান। এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ওই থানার উপ-পরিদর্শক মো. শাহজালাল। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য রাখেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক তারেকুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকার ভাটারা থানার একটি সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশের পর কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হক সাদিক। তবে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তার কারামুক্তি আটকে গেল।

সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় সামরিক আদালত। তখন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বসুন্ধরা এলাকায় একটি প্রাইভেট কার পোড়ানোর মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৭ আগস্ট আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই চাঁদ আলী।

সেই আবেদনে বলা হয়, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে ওই ঘটনা ঘটানো হয়। আসামি সাদিক ভাটারা থানার অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তদন্তে এ ঘটনায় তার ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে’।

আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন গেল সোমবার। ওই দিন শুনানিকালে মেজর সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়। 

আসামিপক্ষের আইনজীবী এইচ. এম আল-আমিন সেদিন আদালতে বলেন, ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ান?

কারাগারে থেকে কীভাবে মামলার ঘটনার সঙ্গে সাবেক মেজর সাদিক জড়িত, এ বিষয়ে ভাটার থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে রোববার ব্যাখ্যা দিতে বলে আদালত। সেই অনুযায়ী এদিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন। সেই ব্যাখ্যা পড়ে মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।

মেজর সাদিকের আইনজীবী এইচ. এম আল-আমিন বলেন, আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই। এরপর তাকে খিলক্ষেত থানার এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হল।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ মে দুপুর ২টার দিকে খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত কয়েক জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের চাকুরি থেকে বরখাস্ত করায় তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ভাবমূর্তি, সুনাম ক্ষুণ্ন করা ও ঢাকা সেনানিবাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য ‘সহযোদ্ধা’ নামক সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়।

এ ঘটনায় ঢাকা সেনানিবাসের সদর দপ্তর লজিস্টিকস এরিয়ার আজিজুল ইসলাম পরদিন খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেন।

এনআর/জেআই