বিজ্ঞাপন

অভিযোগ আমলে নিলেন ট্রাইব্যুনাল

রাজশাহীর সাবেক মেয়র লিটনসহ ৩৪ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রাজশাহীর সাবেক মেয়র লিটনসহ ৩৪ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে দুজনকে হত্যাসহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে ৩৪ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও চারজনকে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হান, সহিদুল ইসলাম সরদার ও তারেক আবদুল্লাহ। 

শুনানিতে এ মামলায় আনা অভিযোগ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর জহিরুল। তিনি ঘটনার পুরো বিবরণ দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে তিনটি ভিডিও প্রদর্শন করেন। এসব ভিডিওতে আসামিদের অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়। এর মধ্যে আসামি জহিরুলসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করেন তিনি। পরে প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চান।

এরপর আবেদন মঞ্জুর করে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা ও চারজনকে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হওয়া চারজন হলেন- রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক এমপি মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ৩৪ জন হলেন- খায়রুজ্জামান লিটন, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির ও শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক।

এর আগে, ৩০ জুলাই এই ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লব চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। একই সময় শাহ মখদুম কলেজের সামনে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আনজুম সাকিব। এছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও বহু মানুষকে আহত করা হয়। শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এমআরআর/জেডএস