একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা একটি মামলায় গঠিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগের (ফরমাল চার্জ) বিরুদ্ধে রিভিউ বা পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেছেন ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন। এ অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে কিনা এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। তিনি এ মামলায় থাকা কিছু অসংগতি তুলে ধরে তোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।
এ সময় ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি যে, এ মামলায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এরপরও অভিযোগ আমলে নিয়ে ফরমাল চার্জ গঠন করা হয়েছিল। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন আগের ট্রাইব্যুনাল। এখন অভিযোগ দেখে আমি কোন পক্ষে যাবো, তা নিয়ে সন্দিহান। কারণ, এটি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ একটি মামলা। যা আওয়ামী লীগের স্বর্ণযুগে গঠন করা হয়েছিল।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, প্রাইমা ফেসি বা প্রাথমিক অভিযোগ না পেয়েও এ ধরনের মামলায় চার্জ গঠন কীভাবে করেছিল। একজনেরও চাকরি থাকার কথা নয়।
এ বিষয়ে তোফাজ্জলের আরেক আইনজীবী মো. জামিল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ মামলায় একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। কিন্তু তৎকালীন প্রসিকিউশনের আনা দুটি অভিযোগে অভিযুক্তদের অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপরও সেসময়কার প্রসিকিউটররা বিষয়টি গোপন করেন। এমনকি ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রথমবার দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ওপরই চার্জ গঠনের আবেদন জানান তারা। পরে আগের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ২০২৪ সালে চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর পরপরই ৫ আগস্টের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর বর্তমান ট্রাইব্যুনালে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তোফাজ্জল। জামিন নেওয়ার পরই চার্জ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে আমরা রিভিউ চাই। যেন চার্জ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর ওপর আজ শুনানি হয়। আগামী ৩১ আগস্ট এ বিষয়ে আদেশ দেবেন ট্রাইব্যুনাল। তোফাজ্জল এ মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন কি পাবেন না, সেটা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে জানা যাবে।
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল এনসিসি ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যানকে জামিন দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ২০১৭ সালে ট্রাইব্যুনালে তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে মিসকেস বা বিবিধ মামলা হয়। তবে তখন তিনি দেশে ছিলেন না।
২০২৪ সালের ১৬ মে আসামির অনুপস্থিতিতে এ মামলায় চার্জ গঠন করেন তৎকালীন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম ও বিচারক এএইচএম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া। মামলার প্রসিকিউটর ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন। স্টেট ডিফেন্স ছিলেন মো. মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
অভিযোগে বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ২৯ এপ্রিল ফেনী সদরের ফকিরহাট বাজারে আবুল হোসেনের দোকানে আক্রমণ করেন রাজাকার তোফাজ্জলসহ সাত-আটজন সশস্ত্র রাজাকার। এর মধ্যে নিজের হাতে থাকা রাইফেল দিয়ে উত্তর ধলিয়ার একজনকে গুলি চালিয়ে হত্যা ও আরেকজনকে আহত করেন তোফাজ্জল। তবে প্রসিকিউশনের এ অভিযোগ নিয়ে পুনঃতদন্তে কোনো প্রমাণ পায়নি বলে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা। আর ওই প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর গোপন রেখেছিলেন বলে অভিযোগ আসামিপক্ষের।
এমআরআর/এসএএস
