বিজ্ঞাপন

জেআইসিতে গুম-নির্যাতন : ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ, ফের ৩১ আগস্ট

জেআইসিতে গুম-নির্যাতন : ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ, ফের ৩১ আগস্ট

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া গুমের শিকার ভুক্তভোগী নুরে আলমকে জেরা করেন গ্রেপ্তার তিন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, শেখ হাসিনার পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন, এম হাসান ইমাম ও সুজাত মিয়া।

পরে নতুন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলাম, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

এর আগে, ১২ আগস্ট জবানবন্দি দেন নুরে আলম। ১৮ আগস্ট তার অবশিষ্ট সাক্ষ্য সম্পন্ন হয়। জবানবন্দিতে ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল নীলফামারীর নিজ বাসা থেকে গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তাকে জেআইসি-টিএফআই সেলে প্রায় আট মাস গুম রাখার পর মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সাক্ষ্যে নিজের গুম জীবনের সেই বীভৎস বর্ণনা তুলে ধরেন এই যুবক।

এ মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন— ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারা হলেন— লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

বাকি আসামিরা হলেন— শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর ১৩ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

এমআরআর/এসএএস