বিজ্ঞাপন

‘ক্যাশিয়ার’ রিফাত নিলয়ের বিরুদ্ধে গুমের মামলার প্রতিবেদন ২৫ অক্টোবর

‘ক্যাশিয়ার’ রিফাত নিলয়ের বিরুদ্ধে গুমের মামলার প্রতিবেদন ২৫ অক্টোবর

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত নিলয় জোয়ার্দারের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। শুনানিতে তিনি জানান, এ মামলায় আজ প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও তদন্ত শেষ করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। এজন্য তাদের আরও দুই মাস সময়ের প্রয়োজন। এর মধ্যেই আসামির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। শুনানি শেষে তার আবেদনটি মঞ্জুর করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেন ট্রাইব্যুনাল।

এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, তারেক আবদুল্লাহ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, আজ সকালে কারাগার থেকে রিফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে পুলিশ।

এর আগে, ২৩ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে জমা দিতে না পারায় আজকের দিন নির্ধারণ করেন আদালত। গত ২৪ মে এ মামলায় রিফাতকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ১৯ মে তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, রিফাত নিলয় জোয়ার্দারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও প্রশ্রয়ে বলপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী মো. মশিউর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তিকে ডিজিএফআইয়ের নিয়ন্ত্রাধীন বিভিন্ন গোপন বন্দিশালায় আটক রাখা হয়। এ সময়ে গুম করা ব্যক্তিদের ওপর বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। যার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পদ্ধতিগতভাবে হওয়া গুম-খুনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রিফাত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক। ধানমন্ডি থানায় হওয়া অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, সাবেক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দখলে থাকা ঢাকা শহরের একাধিক ফ্ল্যাটের তত্ত্বাবধানে ছিলেন রিফাত নিলয়। এসব ফ্ল্যাট থেকে প্রতি মাসে ভাড়ার টাকা সংগ্রহ করতেন তিনি। পরে সেই অর্থ বেনজীরের পৌঁছে দেওয়া হতো। আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত সাবেক এই আইজিপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বাসভাজন ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমআরআর/এসএম