চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা এলাকায় প্রকাশ্যে আফতাব উদ্দিন তাহসিনকে গুলি করে হত্যার মামলায় এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমনকে (২৫) গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তারের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত মো. মুসার ছেলে। তার বিরুদ্ধে সিএমপির বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চান্দগাঁও থানার শমসের পাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে আফতাব উদ্দিন তাহসিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত তাহসিন পেশায় ইট ও বালু ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত ইট-বালু তিনি শমসের পাড়ার উদুপাড়া এলাকায় মজুত করতেন। ঘটনার দিন বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মজুতের জন্য এক ট্রাক বালু সেখানে নেওয়া হলে তা দেখতে যান তাহসিন। এর কিছুক্ষণ পরই সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন তার সহযোগীদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে ঘটনাস্থলে এসে তাহসিনকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মুসা বাদী হয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেনসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সাজ্জাদের সহযোগী মো. হাসান, মোহাম্মদ, খোরশেদ ওরফে খালাতো ভাই খোরশেদ এবং মো. হেলাল।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘২০২৪ সালের তাহসিন হত্যা মামলায় মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ডেভিড ইমনের নামে সিএমপিতে সাতটি মামলা রয়েছে এবং অন্যান্য মামলাগুলোতেও তাকে পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হবে।’
এর আগে, গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্ত ও ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল বলে জানায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ভোরে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। উক্ত অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এমআর/এসএএস
