বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন গত ১৯ আগস্ট এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন আজ। ওই আবেদনে বলা হয়, আসামি নূরুল ইসলাম সুজন এ ঘটনার সাথে জড়িত বা অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুন অর রশীদ আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ আলম শাহীন এর বিরোধিতা করেন।
শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো অবস্থায় আদালতের অনুমতি নিয়ে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, আমি পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। আমি সেখান থেকে নির্বাচিত এমপি। আমার রাজনীতির ক্যারিয়ার ওখানেই। ওইখানে আমি ৪০ বছর ধরে অবস্থা করছি। সর্বশেষ আমি রেলমন্ত্রী হিসাবে ছিলাম। একটি মামলায় জামিন হলে আরেকটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো। কিসের ভিত্তিতে দেখানো হচ্ছে তা আপনার (বিচারক) বিবেচনা করা উচিত। তবে এই সময়ে আপনি (বিচারক) বিবেচনা করতে পারবে কি না আমি জানি না। তবে এটা এখন মূল বিষয়। এই বিষয়ে উচ্চ আদালতেও অনেক সিদ্ধান্তও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ দোষী হয়ে থাকলে অবশ্যই তার বিচার হবে। বর্তমান সরকার বড় বড় পদে থেকে মন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলছেন। কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ তো নেই। পরে শুনানি শেষে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন মো. পারভেজ মিয়া। ওইদিন বিকেল ৫টায় আসামিদের গুলিতে তিনি আহত হলে তাকে প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৯ অক্টোবর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানী শ্যামলীর বাংলাদেশ বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে সুজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
এনআর/জেডএস
