বিজ্ঞাপন

প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ‘ভালো বিচারক’ হবেন, হয়েছেন কি?

প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ‘ভালো বিচারক’ হবেন, হয়েছেন কি?

আদালত অবমাননার দায়ে এক মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. সোহেল রানা। সাজা থেকে অব্যাহতি পেতে আপিল বিভাগের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিজেকে সংশোধনের অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। ক্ষমার আবেদনে তিনি বলেছিলেন, তাকে সুযোগ দেওয়া হলে তিনি একজন ‘ভালো বিচারক’ হবেন। তার সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে সুযোগও দিয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

তবে, সেই সুযোগ পাওয়ার আড়াই বছরের মাথায় ফের গুরুতর বিতর্কে জড়িয়েছেন বিচারক সোহেল রানা। এবার তার বিরুদ্ধে আদালতের খাসকামরায় ডেকে নিজের এক গাড়িচালককে কিল-ঘুষি মারার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার আচরণ ও পেশাগত উপযুক্ততা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের মুখে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। ফলে সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিনি কতটুকু রক্ষা করেছেন— সেই প্রশ্নই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে।

আদালত অবমাননার মামলায় সাজা পেয়ে সর্বোচ্চ আদালতে ‘ভালো বিচারক’ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অব্যাহতি পেয়েছিলেন বিচারক সোহেল রানা। তবে, আড়াই বছরের মাথায় ঢাকার খাসকামরায় গাড়িচালককে মারধর ও সরকারি তেলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনি ফের বিতর্কে জড়িয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা তাকে বিচারিক কাজের জন্য অনুপযুক্ত আখ্যা দিয়ে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারক সোহেল রানা বিচারকাজ পরিচালনার জন্য অনুপযুক্ত এক ব্যক্তিত্ব এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর শৃঙ্খলাভঙ্গমূলক ব্যবস্থা (ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন) নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বিচারকরা যদি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করেন কিংবা ন্যায়নীতি ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গিতে অনৈতিক কোনো কাজে জড়ান, তবে অবশ্যই তাদের উপযুক্ত সাজা হওয়া উচিত। বিচারকের আসনে বসে যারা অবিচারের কাজ করেন, তাদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো আবশ্যক।’

তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চ আদালত অবমাননার দায়ে হাইকোর্ট যখন এই মাননীয় বিচারককে সাজা দেন, সেদিন আমি ওই আদালতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি তখন অঙ্গীকার করেছিলেন, আর কখনও এমন কাজ করবেন না। কিন্তু গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে, তিনি একজন চালককে ফিজিক্যালি হিট (শারীরিকভাবে প্রহার) করেছেন। এটি সত্য হয়ে থাকলে আমার বিবেচনায় তিনি বিচারিক কাজ পরিচালনায় অযোগ্য হয়ে পড়েছেন।’

সুপ্রিম কোর্টের গঠিত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন— মনে করেন শিশির মনির।

বাংলাদেশ আইন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘একই ব্যক্তি কেন বারবার একই ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছেন, বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। সর্বোচ্চ আদালতে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করে। আর একজন বিচারক সম্পর্কে মানুষের যে ধারণা, সে ধারণাটাও নষ্ট হয়। একই সঙ্গে তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আপিল বিভাগে তিনি যে ভালো হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটিরও লঙ্ঘন হয়। আশা করি, তদন্ত কমিটি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।’

বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে অনিয়মের ইতিহাস বেশ পুরোনো। কুমিল্লায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে মালখানার ১০ কোটি টাকার মালামাল নামমাত্র মূল্যে বিক্রি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগে তাকে ওএসডি করা হয়, যা এখনও তদন্তাধীন। এরপরও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে তিনি নতুন পদায়ন বাগিয়ে নেন। বারবার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে তিনি সর্বোচ্চ আদালতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন

নতুন করে যে বিতর্কে জড়ালেন বিচারক সোহেল রানা 

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চু গত ২৩ আগস্ট সাংবাদিকদের কাছে নিজের ওপর নির্যাতনের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, “আমি এই ট্রাইব্যুনালে এক বছর ১০ মাস ধরে কাজ করছি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিচারক স্যারের পিয়ন ফোন দিয়ে বলেন, স্যার ডেকেছেন। আমি লগবই নিয়ে খাসকামরায় গেলে তিনি (বিচারক সোহেল রানা) লগবই দেখে প্রশ্ন করেন, ‘এখানে সময় সকাল ৭টা কেন লিখেছ?’ আমি বিনয়ের সঙ্গে বলি, ‘স্যার, আপনি ৮টায় গাড়িতে ওঠেন। আমি ৭টায় না পৌঁছালে গাড়ি ধোয়ামোছা ও পরিষ্কার করব কীভাবে?’ এ কথা বলতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার চোখে ঘুষি মারেন এবং কানে চড় বসিয়ে দেন।”

তিনি আরও জানান, মারধরের পর বিচারকের পিয়ন তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেন। তাকে লাথি মারার চেষ্টা করা হয় এবং গালিগালাজও করা হয়। ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর আঘাতের কারণে তার চোখ ফুলে যায় এবং অনবরত পানি পড়তে থাকে।


 
চালক বাচ্চু অভিযোগ করেন, ‘তিনি আমাকে বাদ দিয়ে তার গানম্যানকে দিয়ে গাড়ি চালান। সরকারি গাড়িতে প্রতি মাসে ১৮০ লিটার তেল বরাদ্দ থাকলেও তিনি ৫০-৬০ লিটার ব্যবহার করে বাকি তেলের টাকা তুলে নেন। এসব অনিয়ম ও তেলের হিসাব আমি কীভাবে দেখাব— বলায় তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি আমাকে সহ্য করতে পারতেন না। এসব কারণেই তার সঙ্গে মনকষাকষি চলছিল। আজ আমার সঙ্গে যা হলো (মারধর) তার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর চালক আবদুর রহিম জানান, বাচ্চু আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাদের কাছে এলে তাকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার চোখে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চালক আলী হোসেন বাচ্চুর বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলাভঙ্গের বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার শাস্তিমূলক বদলির রেকর্ডও রয়েছে।

অন্যদিকে, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বিচারকের বরাতে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্টাফ ইশতিয়াক হোসেন জনি বলেন, ‘বাচ্চু বেশ কিছুদিন ধরে গাড়ি পরিষ্কার করছিলেন না। বিচারক তাকে খাসকামরায় ডেকে কারণ জানতে চাইলে তিনি বেপরোয়াভাবে জানান যে গাড়ি পরিষ্কার করতে পারবেন না। এরপর বিচারক কেবল ধমক দিয়ে তাকে বের করে দেন। সেখানে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

অভিযোগ তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের অনুসন্ধান কমিটি

বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে খাসকামরায় ডেকে গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ তদন্তে এক সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। 

গত ২৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিচারক সোহেল রানা ও গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুর মধ্য ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে এসেছে। বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষা ও বিচারপ্রার্থী জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বিচারক, গাড়িচালক, প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করতে পারবেন। কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিনি ঢাকায় কর্মরত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার সহায়তাও নিতে পারবেন। নিরপেক্ষ অনুসন্ধান শেষে প্রচলিত আইন বা বিধি অমান্য হয়েছে কি না— তা উল্লেখ করে নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘অনুসন্ধান কমিটি পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে কার কতটুকু দায় তা খতিয়ে দেখবে। নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রশাসনিক ও আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এর আগেও দণ্ডিত হন বিচারক, আপিল বিভাগে ‘ক্ষমা’

আদালত অবমাননার দায়ে কুমিল্লার সাবেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক মো. সোহেল রানাকে ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে মামুন চৌধুরী ও রিয়া আক্তার দম্পতির বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামিপক্ষ হাইকোর্টে আবেদন করলে ২০১৮ সালে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমের ওপর চার মাসের স্থগিতাদেশ দেন এবং রুল জারি করেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের মার্চে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন উচ্চ আদালত।

তবে, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল কুমিল্লার তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা ওই মামলায় অভিযোগ গঠন করেন। উচ্চ আদালতের আদেশ অবমাননার এই বিষয়ে আসামি মামুন চৌধুরী হাইকোর্টে আবেদন জানালে ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট বিচারক সোহেল রানাকে তলব করা হয়। পরবর্তীতে তার লিখিত জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ২৮ আগস্ট সোহেল রানার বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট বিচারক সোহেল রানা কুমিল্লার মামলাটির অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে ১২ অক্টোবর হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন।

রায় ঘোষণার দিন সকালে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও মধ্যাহ্নবিরতির পর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। একই দিনে চেম্বার আদালত তার সাজা স্থগিত করায় পুরো ঘটনাটি আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যান বিচারক সোহেল রানা।

২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে লিখিত আবেদনে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে ক্ষমা করে সাজা থেকে অব্যাহতি দিয়ে একজন ভালো বিচারক হওয়ার সুযোগ দিন।’ তার সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেন।

আরও অভিযোগ বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে

কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজিএম) হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে আদালতের মালখানার প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জব্দ করা মালামাল মাত্র পৌনে দুই কোটি টাকায় বিক্রি দেখিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ তছরুপের মারাত্মক অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। 

কুমিল্লার এক স্থানীয় বাসিন্দার দায়ের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ২০২৩ সালে তাকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদ থেকে সরিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়।

বর্তমানে ওই অর্থ তছরুপের ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ সিরাজ উদ-দৌলা কুতুবীকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে, আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এই বিচারক ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক হিসেবে পদায়ন বাগিয়ে নেন। 

এমএইচডি/এমএআর