বিজ্ঞাপন

সালমানের হয়ে ট্রাইব্যুনালে লড়তে চান বিদেশি আইনজীবী

সালমানের হয়ে ট্রাইব্যুনালে লড়তে চান বিদেশি আইনজীবী

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান এফ রহমানের হয়ে লড়তে চেয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন গ্রায়েম এল. হল নামে বিদেশি এক আইনজীবী। এরই মধ্যে তার দেওয়া আবেদনটি গ্রহণ করেছে বার কাউন্সিল।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। 

গত ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিবের কাছে এ আবেদন করেন গ্রায়েম এল. হল। সালমান এফ রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি চেয়ে করা ওই আবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১১(৮)-এর বিধান উল্লেখ করেন তিনি। 

গ্রায়েম জানান, বাংলাদেশ থেকে নিয়োজিত স্থানীয় আইনজীবীদের পাশাপাশি সালমান ফজলুর রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে তাকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হোক। আবেদনের সঙ্গে নিজের প্রোফাইল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রও সংযুক্ত করেন তিনি।

লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের কাউন্সেল গ্রায়েম এল. হল স্বাক্ষরিত আবেদনটি গত ২৪ আগস্ট গ্রহণ করে বার কাউন্সিল।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সালমান এফ রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী চেয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে অনুমতি চান মুনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছিলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করতে হলে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিতে হয়। পরে বার কাউন্সিলে আবেদন করতে হয়। তাদের অনুমতি পেলে আইনজী নিয়োগে কোনো বাধা থাকবে না। তবে তার এ আবেদনে আপত্তি দিয়েছিল প্রসিকিউশন।

বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১১ জন সাক্ষী।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর এসব অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের প্রথমটিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন সালমান ও আনিসুল। এর প্রেক্ষিতেই ১৯ জুলাই ফোনে কথা বলেন তারা। তাদের কথোপকথনের একপর্যায়ে শোনা যায় ওদের শেষ করে দেওয়া। অর্থাৎ আজ রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দিতে হবে বলে জানান সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনায় প্রাণ দিয়েছেন বহু ছাত্র-জনতা। কিন্তু নির্যাতন বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি তারা।

দ্বিতীয়ত সালমান-আনিসুলের জ্ঞাতানুসারে ২৩ জুলাই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অর্থাৎ তাদের প্ররোচনা-উসকানিতে মিরপুরে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় বাহিনী। তৃতীয়ত মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র করেছিলেন এই দুই প্রভাবশালী। তাদের উসকানি ও সহায়তায় ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এ হত্যাযজ্ঞ ঘটে। চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি-প্ররোচনায় ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এ আকাশ, সেতু, আলভীসহ ১২ জনকে হত্যা করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। 

পাঁচ নম্বরে বলা হয়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঠেকাতে পরিকল্পনা করেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। তাদের নির্দেশে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের হামলায় মিরপুর-২, ১০ ও ১৩ নম্বরে আল-আমিন, আশরাফুল, সাব্বির, রিতাসহ ১৬ জন হত্যার শিকার হন। 

এমআরআর/এমএসএ