বিজ্ঞাপন

গৃহকর্মীর মরদেহ ফেলে যাওয়ার মামলায় তিনজন রিমান্ডে, 'আত্মহত্যা' দাবি

গৃহকর্মীর মরদেহ ফেলে যাওয়ার মামলায় তিনজন রিমান্ডে, 'আত্মহত্যা' দাবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ ফেলে পালানোর অভিযোগে করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (৩১ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবদেনের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।

রিমান্ডে যাওয়া তিন আসামি হলেন- ওই বাসার গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী গৃহকর্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং শ্বশুর এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭)। ফয়সাল পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, তার শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাক মেডিসিন ব্যবসায়ী এবং রেশমা গৃহিণী। এদিকে ওই গৃহকর্মী আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষ ও তাদের আইনজীবী।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মাহফুজা আক্তার আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার। এদিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইলিয়াস কাঞ্চন রিমান্ড বাতিল চেয়ে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রার্থনা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, ভিকটিম সুইসাইড করে। তার মরদেহ নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে যায় আসামিরা। পরে মরদেহ রেখে চলে আসে। এটাই তাদের অপরাধ। আর ফয়সালের শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার কিছুই জানেন না। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসময় বিচারক আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘ভিকটিমের সঙ্গে অভিযুক্তের সম্পর্ক কী?’ আইনজীবী জানান, ভিক্টিম ফয়সালের বাসার গৃহকর্মী ছিলেন। এরপর ওই আইনজীবী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, পরিবারের সঙ্গে ভিকটিমের বিরোধ ছিল। পারিবারিক বিরোধ থেকেই সে আত্মহত্যা করে। এরপর বিচারক জানতে চান, ‘মরদেহ কী বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে?’ আইনজীবী বলেন, মেডিকেল থেকে। তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। কাঠগড়ায় থাকাবস্থায় রেশমার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিক্টিম ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে সুইসাইড করেছে।

পরে আদালত প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মীম আক্তার (১৫) প্রায় এক বছর ধরে ফয়সাল আহমেদের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছিল। কাজ শুরুর পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের কথা মীম ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার পরিবারকে জানালে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

গত ১২ আগস্ট অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মীমের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মীমের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।

এর মধ্যে ১৩ আগস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারকে ফোন করে জানায়, সে বাসা থেকে টাকা-পয়সা চুরি করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। ১৭ আগস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা আসামিদের বাসায় গিয়ে তার খোঁজ করলে তাদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ২০ আগস্ট খবর মীমের পরিবার শাহবাগ থানায় যায় এবং পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে সংরক্ষিত মরদেহ শনাক্ত করে। নিহত মীম কুমিল্লা জেলার বাসুদেব বাজার এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে। মীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ২১ আগস্ট শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর আসামিরা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এলাকায় দীর্ঘদিনের বাসস্থান ছেড়ে ডেমরা এলাকায় আত্মগোপন করে। ২০ আগস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে ডেমরার বামৈল এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এনআর/আরএফ