বিজ্ঞাপন

ট্রাইব্যুনালে ৫৫ বছরের নারী

‘আওয়ামী লীগে যোগ না দেওয়ায় ছাত্রদল নেতা টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা’

‘আওয়ামী লীগে যোগ না দেওয়ায় ছাত্রদল নেতা টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা’

‘আওয়ামী লীগে যোগ না দেওয়ায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদারকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এমনটিই উল্লেখ করেছেন এক নারী। 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। 

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ক্রসফায়ারে ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ১৭ নম্বর সাক্ষী এই নারী। নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ মামলায় বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ মোট আসামি চারজন।

৫৫ বছর বয়সী এই নারীর বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলায়। বর্তমানে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে থাকেন। টিপু হাওলাদারের প্রতিবেশী বাড়ির বাসিন্দা তিনি। 

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী বলেন, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে তিনটার সময় আমি সেলিনার চিৎকার শুনতে পাই। তিনি আমার নাম ধরে ডাকতে থাকেন। একইসঙ্গে টিপু হাওলাদারকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। আমি ঘর থেকে বের হয়ে টিপুকে যে গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় সে পর্যন্ত যাই। তাকে ধরে নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে আগৈলঝাড়া থানা থেকে এসেছেন বলে জানিয়েছিলেন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, পরদিন সকালে আমি টিপুর আত্মীয়স্বজনকে ফোন দেই। মোহাম্মদপুরসহ কয়েকটি থানায় তার খোঁজও নিয়েছি। ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনে দেখি আগৈলঝাড়া বাইপাস এলাকায় টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। পরে এলাকার লোকজনের কাছে শুনেছি যে, টিপু বিএনপির রাজনীতি করতেন। তাকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু যোগ না দেওয়ার কারণে তাকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। উজিরপুর থেকে লোক নিয়ে এসে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের শিকার অপরজন হলেন, একই উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা করেন গ্রেপ্তার আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন। জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

এ মামলায় গ্রেপ্তার আছেন উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিন। সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন তারা।

সাবেক এমপি আবুল হাসানাত ছাড়া অপর আসামি বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম এহসান উল্লাহও পলাতক রয়েছেন।

এমআরআর/এসএম