বিজ্ঞাপন

অভিযোগ প্রসিকিউশনের

সাক্ষীকে ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন, অপ্রয়োজনীয় জেরায় বিচার বিলম্বের চেষ্টা

সাক্ষীকে ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন, অপ্রয়োজনীয় জেরায় বিচার বিলম্বের চেষ্টা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলার সাক্ষীকে জেরার সময় ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন করা এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের মাধ্যমে বিচারকাজ বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরেও এনেছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের তিনি এ অভিযোগের কথা জানান।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনাল-১ এর কার্যতালিকায় আজ তিনটি মামলা ছিল। প্রথমেই একটি মামলায় সাক্ষ্য পেছানোর সময় চেয়েছি। বাকি দুটির একটি হলো যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির ঘটনায় হওয়া মামলা এবং আরেকটি গুমের ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলা। চৌগাছার ঘটনা নিয়ে সকাল থেকেই সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন একজন এএসআই। জবানবন্দির পর তার জেরা শুরু হয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রথমার্ধে জেরা শেষ হওয়ার কথা। অর্থাৎ মামলায় সাতজন আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স যিনি ছিলেন, তিনি জেরার একপর্যায় বললেন আর কিছু অংশ বাকি রয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম দ্বিতীয়ার্ধে জিয়াউল আহসানের মামলাটির ট্রায়াল শুরু হবে। 

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর জেরার ধরন বা ভঙ্গি দেখে মনে হয়েছে ডিলেটরি ট্যাকটিক্স নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বেশ কিছু অপ্রাসঙ্গিক ও অপ্রয়োজনীয় জেরা করেছেন। গ্রহণযোগ্য নয় এমন প্রশ্নও করেছিলেন। এ নিয়ে আমরা প্রসিকিউশনের পক্ষে বারবার আপত্তি জানিয়েছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের অবজেকশন ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে করেননি। 

প্রসিকিউশনের মামলা বিলম্বিত করতেই এমন করা হয়েছে উল্লেখ করে মিজানুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে প্রসিকিউশনের অন্য মামলাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই সাক্ষীকে অপ্রয়োজনীয় জেরা করা হচ্ছিল। বিষয়টি আমরা ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছি। উপস্থাপনের একপর্যায়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আমরাও কিছুটা জোরে কথা বলেছি। তিনিও বলেছেন। পরবর্তীতে আমরা ট্রাইব্যুনালকে বলেছি যে, যেহেতু এ মামলার জেরা শেষ হচ্ছে না, সেহেতু অপর মামলাটি মুলতবি করা হয়। পরে জিয়াউল আহসানের মামলার সাক্ষীর জন্য আগামীকাল (বুধবার) দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

জেরায় প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি কেমন ছিল- জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল বলেন, অন্তত ২০টি প্রশ্ন তিনি পুনরাবৃত্তি করেছেন। তাদের অনেক প্রশ্নের উত্তরই রেকর্ড করেননি ট্রাইব্যুনাল। কারণ ট্রাইব্যুনাল খুঁজে দেখেছেন যে, এই প্রশ্নটি ভিন্নভাবে করা আছে। 

এদিন চৌগাছার মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলাটি কার্যতালিকার এক নম্বরে ছিল। তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। তার জবানবন্দি শেষে জেরা করেন যশোরের তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ পলাতক পাঁচ আসামির পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মনজুর আলম। গ্রেপ্তার দুজনের হয়েও তিনি সাক্ষীকে নানান প্রশ্ন করেন।

এমআরআর/জেআই