প্রেমিকের ব্যবসার জন্য চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও তা না দেওয়ায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন স্বামী।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. শামীম মিয়া বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কদমতলী থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় তার পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম সবুজ শুনানি করেন।
মামলার বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করে এই আইনজীবী জানান, রাজধানীর কদমতলী থানার মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শামীম মিয়া তার স্ত্রী ফাতেমা তুজ জহুরা, স্ত্রীর কথিত প্রেমিক শেখ মো. ইমাম হোসাইন এবং শাশুড়ি শাহানাজকে আসামি করে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে কদমতলী থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে ফাতেমা তুজ জহুরার সঙ্গে শামীমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শামীম জানতে পারেন, তার স্ত্রী বিয়ের আগের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ইমাম হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। শামীম পেশায় একজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী। তিনি বাসায় ব্যাবসায় জমানো টাকা রাখলে, স্ত্রী সেই টাকা থেকে বিভিন্ন সময় প্রেমিক ও তার মাকে দিতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, স্ত্রীর টাকা সরানো বন্ধ করতে গেলে বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য নানা শর্ত চাপান তার স্ত্রী এবং বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিতে থাকেন। এভাবে বিগত দুই বছরে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়ার পর শামীম জমানো টাকা ফেরত চাইলে স্ত্রী তা প্রেমিক ও মায়ের কাছে দিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট রাতে তার স্ত্রী ও শাশুড়ি তার কাছে ইমাম হোসাইনের ব্যবসার কথা বলে চার লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গালিগালাজ ও ধাক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেওয়া হয়।
এনআর/বিআরইউ
