দুর্নীতির মামলায় পাবনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের নামে পাবনা এলাকায় থাকা ১৩ দশমিক ৯৯ একর ও দুটি গাড়ি ক্রোক করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তার নামে থাকা ১৪ টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এসব জমির মূল্য এক কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার দেখানো হয়েছে। আর ব্যাংক হিসাবে ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৪৯৫ টাকা রয়েছে। তবে আবেদনে গাড়ির মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা জমি ও গাড়ি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স একজন সাংসদ তথা পাবলিক সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ও অসৎ উদ্দেশ্যে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩৪ টাকার জ্ঞাত-আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখেন। নিজ নামে ৩৬টি ব্যাংক হিসাবে ২১২ কোটি ৬৭ লাখ ৭২ হাজার ১০০ টাকা জমা এবং ২১২ কোটি ৬৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৭ উত্তোলনসহ মোট ৪২৫ কোটি ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৭ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ ‘দুর্নীতি ও ঘুষ’ গ্রহণের করে অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করে অপরাধ করেন। এ অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করে।
তদন্তকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামির নামীয় ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর, বা বেহাত করার প্রচেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তির পূর্বে এসব সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে ক্ষতির কারণ রয়েছে। এই অবস্থায় তার স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করা প্রয়োজন।
এনআর/বিআরইউ
