চট্টগ্রাম নগরের ডিসি হিল এলাকায় সরকারি গাড়ির চাপায় অন্তঃসত্ত্বা কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় বাদীপক্ষকে না জানিয়ে চার্জশিট দাখিল এবং আসামির আত্মসমর্পণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার এক নম্বর আসামি পিকআপ ভ্যানচালক বাবলু দাশ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে বাবলু দাশের জামিন মঞ্জুর করা হয়।
মামলার আইনজীবী নাজবীন সুলতানা জেনী ঢাকা পোস্টকে বলেন, মামলার এক নম্বর আসামি বাবলু দাশ আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। চার্জশিটে বাবলু দাশকে আসামি রাখা হলেও নিরাপত্তাকর্মীকে আসামি করা হয়নি।
বাদীপক্ষকে না জানিয়ে চার্জশিট দাখিল এবং আসামির আত্মসমর্পণের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন আগে মামলার তারিখে তারা চার্জশিট দাখিলের জন্য তাগাদা দিয়েছিলেন। এরপর চার্জশিট দাখিল করা হলেও জিআরও (জেনারেল রেকর্ড অফিসার) শাখা থেকে তাদের বিষয়টি জানানো হয়নি।
আইনজীবীর প্রশ্ন, বাদীপক্ষকে না জানানো সত্ত্বেও আসামি কীভাবে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি জানতে পারলেন এবং আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করলেন। তিনি আরও বলেন, আমরা নারাজি দেব এবং জামিন বাতিলের পিটিশন দেব। জিআরও আমাদের সহযোগিতা করেনি।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার পর ডিসি হিলের মূল ফটক দিয়ে একটি সাদা রঙের পিকআপ ভ্যান বের হওয়ার সময় ফটকের সামনে থাকা অন্তঃসত্ত্বা একটি কুকুরকে চাপা দেয়। এ ঘটনায় পরিবেশকর্মী তোফায়েল আহমেদ মামলা করেন।
২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলায় ডিসি হিলের মূল ফটক দিয়ে বের হওয়া পিকআপ ভ্যানের চালক ও নিরাপত্তাকর্মীকে আসামি করা হলেও তখন তাদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি।
আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নিতে কোতোয়ালি থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন এবং পশু হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারায় মামলাটি করা হয়।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, ডিসি হিলের মূল ফটকের সামনে একটি অন্তঃসত্ত্বা কুকুর বসে ছিল। নিরাপত্তাকর্মী কুকুরটি সেখানে বসে থাকার বিষয়টি দেখলেও সেটিকে সরানোর উদ্যোগ নেননি এবং গাড়িচালককেও থামাননি। পরে পিকআপ ভ্যানটি কুকুরটির ওপর দিয়ে চলে যায়।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। প্রায় এক মিনিট তিন সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ডিসি হিলের মূল ফটক দিয়ে একটি সাদা রঙের পিকআপ ভ্যান বের হচ্ছে। ফটকের সামনে একটি কুকুর বসে থাকলেও গাড়িটি না থেমে ধীরগতিতে সেটির ওপর দিয়ে চলে যায়। পরে আহত কুকুরটি ছটফট করতে থাকে এবং আরও দুটি কুকুর সেখানে ছুটে আসে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার রাতে ডিসি হিলের প্রধান ফটক বন্ধ ছিল। গাড়িটি বের হওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মী ফটক খুলে দেন।
এদিকে, মামলার আইনজীবী জানিয়েছেন, চার্জশিটে নিরাপত্তাকর্মীকে আসামি না রাখার বিষয়েও তারা আদালতে আপত্তি জানাবেন। একইসঙ্গে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি এবং বাবলু দাশের জামিন বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
জেডএস
